নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) ছাত্রাবাসের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক শিক্ষার্থী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধানে ঘটনাটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির কারণও হতে পারত বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী প্রান্ত সরকার কক্ষে চেয়ারে বসে পড়াশোনা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ছাদের একটি বড় অংশের পলেস্তারা ভেঙে তার কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি সামান্য আঘাত পান। তবে পলেস্তারার অংশটি যদি কয়েক সেন্টিমিটার এদিক-সেদিক পড়ত, তাহলে তা সরাসরি তার মাথায় আঘাত হানতে পারত এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
এ ঘটনায় ছাত্রাবাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেলের বিভিন্ন কক্ষে ছাদে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিন-রাত পড়াশোনা করছি। কিন্তু যদি নিজেরাই নিরাপদ না থাকি, তাহলে সেই স্বপ্ন কতটা নিরাপদ? আজ একজন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু আগামীকাল সবাই কি এতটা ভাগ্যবান হবে?”
বর্তমানে শেবাচিম ছাত্রাবাসের বিভিন্ন ভবনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। একাধিক কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, দেয়ালে ফাটল এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত প্রকৌশলগত পরিদর্শনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো চিহ্নিত করে জরুরি সংস্কার, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পর নয়, বরং দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।


