হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের অ্যাকশন নয়, বরং রিঅ্যাকশন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মতো ঘটনা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসপাতাল স্টাফদের আচরণেরও শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে একটি বৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এক নোটিশে বাতিল করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন,‘আদ-দ্বীন হাসপাতালের কিছু ব্যক্তির জামায়াত ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা থাকায় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এই হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভিডিও বার্তায় সারজিস আলম আদ-দ্বীন হাসপাতালের দীর্ঘ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মানুষ এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মানুষ বহির্বিভাগে সেবা নেন এবং ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হন। প্রায় তিন লাখ মা এখানে সন্তান প্রসব করেছেন, যার মধ্যে এক লাখ নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সিজারের ক্ষেত্রে ডাক্তার, খাবার ও ওষুধসহ পুরো প্যাকেজ মাত্র ১১,০০০ টাকা, নরমাল ডেলিভারি ৪,৫০০ টাকা এবং অতি দরিদ্রদের ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩৮০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে, ঢাকার অনেক বেসরকারি হাসপাতালের দিকে তাকালে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশনের প্রকৃত প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন কারণে সিজার করানো হয়। একইভাবে, অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে কিছু বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় আইসিইউতে রেখে দেয়।
সারজিস আরও বলেন, সম্প্রতি আমরা দেখেছি, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন মৃত রোগীকে তিন দিন আইসিইউতে রেখে বিপুল অঙ্কের বিল আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সারজিস আলম বলেন, হাসপাতালটিতে প্রায় ৭০০ বেড রয়েছে এবং শতাধিক আইসিইউ ও এনআইসিইউ বেড চালু রয়েছে। পাশাপাশি উইমেন্স মেডিকেল কলেজে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার মধ্যে ২০০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। নার্সিং কলেজে আরও ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন, যার মধ্যে এক হাজার ৫০০ জন নারী।
তিনি বলেন,‘হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম এবং হাজারো কর্মীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত রোগীদের ভোগান্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। যদি এসব অব্যবস্থাপনার জন্য চিকিৎসকদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে একই কারণে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষেরও কি জবাবদিহির আওতায় আসা উচিত নয়? তাদের দায়-দায়িত্ব নিয়েও কি প্রশ্ন তোলা উচিত নয়?
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ সমাধান নয়। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান হতে পারে না। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সঠিক পথ।’


