Take a fresh look at your lifestyle.

স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি সহ ছয় দফা দাবি বিপিএফের

৪৬

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
সরকারিভাবে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম (বিপিএফ)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ দাবি তুলে ধরে তারা। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি বলেও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিকট নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো—

১. সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতে, বাংলাদেশের সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চাল করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।

২. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।

৩. স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। একটি স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন করতে হবে, যা হসপিটাল ফার্মেসি এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু ও বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি প্রোগ্রামকে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডিতে রূপান্তর করতে হবে।

৫. সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ফার্মাসিস্ট’ ও ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের ন্যায় ফার্মাসিস্ট বলতে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকেই বোঝায়, তাই ফার্মেসিতে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ শব্দটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৬. ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (ডিজিডিএ) ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশের রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করতে হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী দাবি আদায়ে জনসচেতনতা এবং জনমত তৈরির ব্যাপারে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত একজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন এবং উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট এবং শিক্ষারতসহ প্রায় ৩৫ হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছে। এই দক্ষ ফার্মাসিস্ট বৃন্দ দেশে-বিদেশে ওষুধ শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া (ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন) ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিপিএফ নেতৃবৃন্দ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.