Take a fresh look at your lifestyle.

আমাদের শিক্ষক সংকট, আমাদের কি এত মেডিকেল কলেজ দরকার? : ওজিএসবি সভাপতি

৫৮

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
আমরা রাস্তায় রাস্তায় মেডিকেল কলেজ তৈরি করছি, অথচ আমাদের কি এত মেডিকেল কলেজ দরকার? আমাদের কি পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে? শিক্ষক সংকটের কারণে, আজকাল মেডিকেল কলেজগুলো যেন পাঠশালার মতো হয়ে গেছে এবং এতে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শহীদ ডা. মিলন হলে বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম এসব কথা বলেন। সচেতনতামূলক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢামেক হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন ইউনিট।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমাদের দেশে কনসিংগুইনাস ম্যারেজ (সম্বন্ধিত বিয়ে) খুব সাধারণ। এর কারণে কিছু রেয়ার বার্ড ডিফেক্টস (দুর্লভ জন্মগত ত্রুটি) বেশি হয়, যার জন্য সাধারণত কোনো স্থায়ী ট্রিটমেন্ট নেই। তবে কিছু কিছু বার্ড ডিফেক্ট আমরা প্রিভেন্ট (প্রতিরোধ) করতে পারি। যেমন, প্রাইমারি প্রিভেনশন (প্রাথমিক প্রতিরোধ) এর মাধ্যমে, কিছু কিছু আমরা ইনট্রোটেটাল লাইফে (গর্ভাবস্থায়) ডিটেক্ট (সনাক্ত) করি এবং তত্ক্ষণাত্ চিকিৎসা প্রদান করা যায়। আবার কিছু কিছু বার্ড ডিফেক্ট আমরা শুধুমাত্র আফটার বার্থ (জন্মের পর) টারশিয়ারি প্রিভেনশন (তৃতীয় স্তরের প্রতিরোধ) মাধ্যমে সনাক্ত ও চিকিৎসা করতে পারি, যেমন কনজেন্টাল হাইপোথাইরয়েডিজম (জন্মগত থাইরয়েড সমস্যা)।

তিনি বলেন, ‘এইসব ডিফেক্টের মধ্যে কিছু স্ট্রাকচারাল (গঠনগত), আবার কিছু ফাংশনাল (কার্যকরী) হয়। যেগুলোর মধ্যে কিছু আমরা চিকিৎসা করতে পারি, তবে কিছু কিছু ট্রিটমেন্ট করা সম্ভব নয়। এসব সমস্যার ফলে রোগী ও তার পরিবারে বিশাল এক বোঝা সৃষ্টি হয়। এই বোঝা আমাদের দেশে, অন্য দেশগুলোর মতো, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকবে।

তবে আমাদের দেশে অনেক অভিজ্ঞ স্পেশালিস্ট রয়েছেন এবং আমরা একদিনে ১০০টি রোগী পর্যন্ত দেখি। প্রতিটি রোগীর জন্য ন্যূনতম ১৫ মিনিট সময় দেওয়া উচিত, যাতে আমরা সঠিকভাবে রোগীর ইতিহাস নিতে পারি এবং তার সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি। তবে দুঃখজনকভাবে, আমাদের কাছে এত সময় নেই। যতক্ষণ না আমরা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিবো, ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক চিকিৎসা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমি ওজিএসবি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। আমার এক প্রফেসর বলেছিলেন, আমি চেষ্টা করে যাবো যতদিন আমি বেঁচে আছি, যাতে আমাদের দেশে একটি ভালো মলিকুলার ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি সুইজারল্যান্ডের জিক ইউনিভার্সিটি হসপিটালে গিয়েছিলাম, যেখানে তাদের জেনেটিক ল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নয়, বরং অনেক দূরে অবস্থিত। সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং সারা সুইজারল্যান্ড থেকে স্যাম্পল এক জায়গায় সংগ্রহ করা হয়।

যদি আমরা চাই, প্রতিটি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একটি করে ল্যাব তৈরি করতে, তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে— আমরা রাস্তায় রাস্তায় মেডিকেল কলেজ তৈরি করছি, অথচ আমাদের কি এত মেডিকেল কলেজ দরকার? আমাদের কি পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে? শিক্ষক সংকটের কারণে, আজকাল মেডিকেল কলেজগুলো যেন পাঠশালার মতো হয়ে গেছে, এবং এতে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এছাড়া আমরা চাই, আমাদের সম্মান ফিরে আসুক এবং আমরা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারি। চিকিৎসা শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে নয়, বরং সহানুভূতির সঙ্গে হতে হবে। রোগী যেন আমাদের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, আমাদের অনেক কিছু করার আছে, কিন্তু আমরা তা যথাযথভাবে করছি না। আমরা যদি আমাদের রোগীকে আমাদের সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখার চেষ্টা করি, তবে দেশের উন্নতি সাধনে সফল হতে পারব। তাই, আমাদের সবাইকে একযোগে দেশের উন্নতির জন্য চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জন্মগত ত্রুটি বিষয়ে ডা. আরিফা শারমিন মায়ার রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত একটি নাটক প্রদর্শিত হয়। সচেতনতামূলক এই নাটক দর্শকসহ উপস্থিতি বিশিষ্টজনদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়, যেখানে অভিনয় ও কলাকুশলী ছিলেন দেশের বড় বড় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকরা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.