হেলথ ইনফো ডেস্ক :
সময় পেলেই স্ত্রী লামিয়ার কবরের পাশে স্থির হয়ে বসে থাকেন মোহাম্মদ শরীফ। যে ছেলেটি বড় হয়ে উঠছে, সে কোনোদিন তার মাকে দেখতে পাবে না-এই ভাবনা এলেই বুকটা হু হু করে কেঁদে ওঠে। চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরে। একসময় সুন্দর সংসার ছিল শরীফের। কিন্তু ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সেই সংসার আজ তছনছ হয়ে গেছে। ভোলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধন হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করানোর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্ত্রীকে হারান তিনি।
মোহাম্মদ শরীফ বলেন, গত ৭ জানুয়ারি আমার স্ত্রীকে ক্লিনিকে ভর্তি করাই। ৮ জানুয়ারি সিজারের মাধ্যমে আমাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। অপারেশনের পরপরই ‘ও’ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন বলে জানায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আমরা দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করি। তখনও আমার স্ত্রী সুস্থ ছিলেন। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রক্তের ক্রসম্যাচ না করেই তা শরীরে পুশ করে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আপত্তি জানালে তারা বলেন, কোনো সমস্যা হবে না। কিছুক্ষণ পরই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, ভুল রক্ত দেওয়ায় রক্তকণিকা ভেঙে গেছে। ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লামিয়া মারা যান।
তিনি আরও বলেন, আইনি জটিলতার কারণে মামলা করিনি। বিচার পাব না বলেই বিশ্বাস করি। কারণ দেশে ভুল চিকিৎসাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় খুব কম ক্ষেত্রেই বিচার হয়। সেই ক্লিনিক এখনও চালু আছে। শুধু আমার স্ত্রীই নেই, আমার সংসারটাই ভেঙে গেছে।
সূত্র : খবর বরিশাল.কম


