মন্তব্য প্রতিবেদন :
হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের টার্গেট পপুলেশনের বয়স ছিল ৬মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত। এই বয়সী গ্রুপের টার্গেট পপুলেশন, ইপিআই দপ্তররের হিসেব মোতাবেক, ১কোটি ৮০ লাখ প্লাস।
হাম প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন শুরু করার পর এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ১কোটি ৮৪ লাখ প্লাস।
এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০৩% এর মতন। হামের সংক্রমণ এবছরের মার্চের দিকে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পায় এবং শিশুমৃত্যু শুরু হয়। নানারকম আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও একেবারেই নতুন সরকার অতিদ্রুত হামের টিকা কেনার ব্যাবস্হা করে এবং মে মাসের শুরু থেকেই মাস ভ্যাক্সিনেশন শুরু করে।
টার্গেট পপুলেশনের চাইতে ৩% বেশী শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে মর্মে আমরা ইপিআই এর ডাটায় দেখতে পাই। সে হিসেবে এতোদিনে হামের সংক্রমণ ফুরিয়ে আসার কাছাকাছি থাকার কথা। কিন্তু, বাস্তবে তা হচ্ছেনা।
চিশু মৃত্যুও থেমে যায়নি। কিছু কমে, আবার বৃদ্ধি পায়। গত ২৪ ঘন্টায় যদিও ১জন শিশু সন্দেহজনক হামে মারা গেছে। কিন্তু, পুরো সপ্তাহে জুড়ে মৃত্যু ছিল ৮জন, ৬জন, ৫জন, ১জন, ৪জন। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০-১০০০ এর মধ্যে থাকছে প্রতিদিনই।
কেন সংক্রমণ কমছেনা এতো দিনেও, কেন এখনও শিশুমৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রিত নয়, ঠিক কি ধরণের হাম ভাইরাসের প্রজাতির কারণে আউটব্রেক হলো, এটির জন্য জেনোম সিক্যুয়েন্সিং হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে তার ফলাফল কি, টিকার ঘাটতির বাইরে আর কোন ফ্যাক্টর এই সংক্রমণের ও মৃত্যুর জন্য দায়ী কিনা,
সংক্রমণ হ্রাসে আমাদের আর কি কি করণীয়, ডাটায় প্রদত্ত ১০৩% টিকা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা, টিকার কার্যকারিতা সঠিক মাত্রায় ছিলো কিনা,
প্রদত্ত টিকা এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী হাম ভাইরাসের উপর কতোটা কার্যকর এবং
এমনকি, উল্লেখিত টার্গেট ১কোটি ৮০ লক্ষই সঠিক লক্ষ্যমাত্রা কিনা,
– উপরে উল্লেখিত প্রতিটি প্রশ্নের জবাব আমাদেরকে সঠিকভাবে খুঁজে বার করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে সেসব ক্ষতিয়ে দেখেছি কিনা এবং না দেখে থাকলে তা দ্রুত দেখার ব্যাবস্হা করতে হবে।
আর, দেখা হয়ে থাকলেও, যেহেতু এখনও সংক্রমণ আশানুরূপ কমে যায়নি, তাই হাম নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত হবে প্রতিটি বিষয় পুণরায় সূক্ষভাবে রিভিউ করে দেখা।
দিন কয়েক আগে সাংবাদিক শিশির মন্ডলের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৬মাস থেকে ৫বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা নিয়ে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি এরই মাঝে সম্পন্ন হওয়া ভিটামিন-এ+ ক্যাম্পেইনের টার্গেট শিশুর সংখ্যা স্বাস্হ্যবিভাগের রেফারেন্স ধরে বলেছেন ২কোটি ২৬ লক্ষ। এদের বয়স ৬মাস থেকে ৫বছর।
সে ক্ষেত্রে, পাব্লিক হেলথ ও পুষ্টি দপ্তরের তথ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে হামের টিকার টার্গেটে উল্লেখিত টার্গেটের বাইরেও আরও প্রায় ৪৫ লাখের মত শিশু টিকার হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ার কথা।
প্রথমে পরিসংখযান দুটোর পার্থক্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে না চাইলেও, বাস্তবে আক্রান্ত রোগীর প্রতিদিনের সংখ্যা কিন্তু পরিসংখ্যানের ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে।
সকল সংশ্লিষ্ট জনেরই উচিত জাতীয় স্বার্থে পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহণ করা।
সূত্র : এসএএ শাফী এর ফেইজ থেকে নেয়া।


