Thursday, June 25, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিটফোর্ডে চিকিৎসকদের ওপর জবি ছাত্রদল আহ্বায়কের নেতৃত্বে হামলা, প্রতিবাদে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

মিটফোর্ডে চিকিৎসকদের ওপর জবি ছাত্রদল আহ্বায়কের নেতৃত্বে হামলা, প্রতিবাদে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

আজ বুধবার (২৪ জুন) এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আইডিএ জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের ৪২৯ নম্বর কক্ষে ১০-১২ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্টার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর আইডিএ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো—প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘গত ১ মার্চ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রায় চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাতে অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতালে আনার পর ভর্তি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ করে। কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জড়িত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, রাতে অসুস্থ অবস্থায় জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক হিমেলের এক বন্ধুর আত্মীয়কে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে নেওয়ার পর ভর্তিসহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে চিকিৎসা শুরু হতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়। এ সময়েও একই ঘটনা ঘটলে উত্তেজিত হয়ে তারা হিমেলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ করে।

এ বিষয়ে এসএসএমসি আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় আমরা সকলকে শনাক্ত করতে পারিনি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments