Wednesday, June 24, 2026
Google search engine
Homeজানা অজানাবরিশালে জেলা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালে জেলা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬’। এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালে জেলা এ্যাডভোকেসি ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১:০০ টায় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (এনএনএস) বাস্তবায়নে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন।

শিশুদের অন্ধত্ব ও অপুষ্টি দূরীকরণে জোর তাগিদ দেন
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন বলেন, “শিশুদের রাতকানা রোগ ও অপুষ্টি প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সব শিশু সঠিকভাবে মায়ের দুধ কিংবা সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর বয়সের শিশুদের একটি বিরাট অংশ এই ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। শিশুদের এই ঘাটতি পূরণে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার টানানোর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির নির্দেশনা দেন তিনি।

ক্যাম্পেইনের সময়সূচি ও জরুরি তথ্য
সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের বিনামূল্যে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বয়সভেদে ক্যাপসুলের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ:

শিশুর বয়স ক্যাপসুলের রঙ পরিমাণ
৬ – ১১ মাস নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ১টি
১২ – ৫৯ মাস লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ১টি
বরিশাল জেলার প্রস্তুতি
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনটি বরিশাল জেলার সব উপজেলায় একযোগে পরিচালিত হবে। মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইনটি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে:
স্থায়ী কেন্দ্র: জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৯টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থাকবে।

অস্থায়ী কেন্দ্র: প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সর্বত্র সেবা পৌঁছে দিতে ২০৮৮টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাজন রায়, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। অনুষ্ঠান চলাকালীন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ এজাজ হোসেনের তত্ত্বাবধানে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের ওপর একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments