হেলথ ইনফো ডেস্ক :
পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের উদ্ভিদবিজ্ঞান ভবনের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ডা. জুবাইদা। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে চাই। সুন্দর ও নির্মল পরিবেশে গড়ে উঠবে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সবুজ স্বেচ্ছাসেবা’, ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’ এবং ‘পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল’ গঠন করা যেতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের উদ্ভিদবিজ্ঞান ভবনের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের মরুভূমিতে জিয়াউর রহমান জিয়া নিম ট্রি রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ মুসলিম উম্মাহর বহু হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে সেই গাছের ছায়ায় রৌদ্রের তাপ থেকে স্বস্তি পাচ্ছেন।’
জুবাইদা রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং প্রজন্মগত এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করা যায়। সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় ‘সবুজ স্বেচ্ছাসেবা’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত—চিকিৎসাবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে—তাদের মেধার সুষ্ঠু প্রয়োগ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। সুস্থ প্রতিযোগিতা সমাজে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয় এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করে।’
‘বিজ্ঞানের ইনোভেশনের মাধ্যমে বহু সমস্যার সমাধান হবে। শুধু চাই আমাদের উদ্যোগ ও আকাঙ্ক্ষা। সায়েন্সের দ্বারা দেশের মানুষের বহু কষ্ট লাঘব করা যায়। বিজ্ঞানচিন্তায় মগ্ন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীরা সারাদেশে, গোটা বিশ্বের ভরসা। তাদের চিন্তায় ভর করে এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ’—যোগ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে ও জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের পরিচালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ মো ইউসুফ হায়দার, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও জেডআরএফ’র পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফে ছানী, জেডআরএফর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে একইদিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে কার্জন হল এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জুবাইদা রহমান।


