হেলথ ইনফো ডেস্ক :
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অনুমোদন ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো ছাড়াই একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
“লাইফজোন ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল” নামের প্রতিষ্ঠানটি নাওডোবা গোলচত্বরের পাশে একটি দোতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো, লাইসেন্স ও জরুরি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির ভেতরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি এক্সিট বা ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পদ্মাসেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাছে অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ন্যূনতম নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এমন একটি স্পর্শকাতর সেবা খাতে এত দুর্বল ব্যবস্থাপনা উদ্বেগজনক। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে হাসপাতালটিতে কর্মরত বলে পরিচয় দেওয়া আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইশরাত জাহানকে হাসপাতাল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এই বর্তমানে হাসপাতালের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে জানান।
হাসপাতালটির মালিক ও চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর নিজেকে মনোবিজ্ঞানী ও পিএইচডি স্কলার হিসেবে পরিচয় দিলেও তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি লাইসেন্সের আবেদন জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে কার্যক্রম চালানোর দাবি করেন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর শরীয়তপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক রাসেল নোমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করা হলে আরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোমান বাদশা জানান, দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং হাসপাতালটি সিলগালা করার পরিকল্পনা রয়েছে।


