Sunday, May 17, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়আমি জানি না আমার কোনো অবহেলা আছে কি না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আমি জানি না আমার কোনো অবহেলা আছে কি না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
দেশে হামে ও উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কোনো দায় আছে কি-না, নির্দিষ্ট করে বললে সংশোধন করে নেবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আমি জানি না আমার কোনো অবহেলা আছে কি না।’

আজ রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগ পর্যন্ত মিজেলসের (হামের) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের (হামের) একটা টিকাও আমাদের হাতে ছিল না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হামের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই আইসিইউ চালু করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার কুর্মিটোলা, শিশু হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আরও ১০টি হাসপাতালে আইসিইউ চালু হবে।

এ সময় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বরাত দিয়ে এক সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইপিআই বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না, অব্যবস্থাপনার কারণে টিকাদানে ধীরগতি ছিল। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সত্য বলেছি, নাকি ইপিআই? দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি কোনো টিকা পাইনি।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাম থেকে নিউমোনিয়ায় যাওয়ার অন্যতম কারণ পুষ্টির অভাব। মায়ের শরীরে কোনো পুষ্টি নেই। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এসব মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত ব্রেস্টফিডিং করান না। বাচ্চারা ৯ মাস পর্যন্ত মায়ের কাছ থেকেই ইমিউনিটি নিয়ে থাকে। বাচ্চাদের যদি মায়েরা নিয়মিত বুকের দুধ না খাওয়ান, তাহলে বাচ্চা তো অপুষ্টিতে থাকবেই। এই পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলেই শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে র‌্যাশ দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকেই অন্যের শরীরে হাম ভাইরাস ছড়াতে থাকে। একজন হামের রোগী সর্বোচ্চ ১৮ জনকে হাম ছড়াতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে শিশুদের অন্য বাচ্চাদের থেকে একটু নিরাপদে রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোতেও নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন হামে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকে।

অনুষ্ঠানে ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ প্রমুখ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments