ক্যান্সার হাসপাতালের উপপরিচালকে ২০ হাজার টাকার’ চুক্তিতে হামলা করে : র‌্যাব

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
মালয়েশিয়ায় থাকা রুবেল নামে একজনের নির্দেশে এ হামলা হয়, বলছে পুলিশের বিশেষ এ ইউনিটের কর্মকর্তারা।
দরপত্র নিয়ে বিরোধের’ জেরে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপপরিচালক আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে দাবি করেছে র‌্যাব।
এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের বিশেষ এ ইউনিটের তরফে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় থাকা রুবেল নামে একজনের নির্দেশে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে এই হামলা হয়।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১ এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান বলেন, হাসপাতালের একটি কাজের দরপত্র নিয়ে রুবেলের ইউনি ট্রেডার্স ও মোনায়েম গ্রুপের একটি দ্বন্দ্ব চলছিল।

এর জেরে ‘ভীতি প্রদর্শন করতে’ হাসপাতালের উপপরিচালক আহমদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
দরপত্র পাওয়া নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকার তথ্য দিলেও এর সঙ্গে ওই চিকিৎসকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুরনো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের পেছনের গলিতে ৫০ বছর বয়সি আহমদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর প্রথমে তাকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ বলেছে, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন ওই চিকিৎসক। এ সময় নাম না জানা দুই-তিনজন তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

রাতে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বনানী থানায় নাম না জানা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে রাতে ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে ঢাকার দক্ষিণখান, বাড্ডা ও গুলশান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তাররা হলেন- শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিন ও আরিফুজ্জামান।

এদের মধ্যে শরিফুল ‘প্রধান অভিযুক্ত’ বলে তথ্য দিয়েছে র‌্যাব। তারা বলছে, রুবেলের নির্দেশে করিমের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে।

আহত চিকিৎসকের বরাতে পুলিশ জানিয়েছিল, বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ‘দরপত্র দেওয়ার জন্য হুমকি’ দেওয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ছুরিকাঘাতে আহত ওই চিকিৎসক হাসপাতালের কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন।

রুবেলের বাবা ওই হাসপাতালের একজন স্টাফ ছিলেন, ফলে বিষয়গুলো সম্পর্কে রুবেল অবগত বলে মনে করছে পুলিশ।

র‍্যাব-১ এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়ামুল বলেন, “ঘটনার পর আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এটাই ছিল আমাদের সূত্র, কারা তাকে হুমকি দিচ্ছে।

“প্রাথমিক তদন্তে যেটা আসছে, রুবেল বিদেশে আছে। তারই পক্ষে কাজ করেছে করিম। মাত্র ২০ হাজার টাকার ভাড়া করা সন্ত্রাসীর মাধ্যমে কার্যক্রমটা সংগঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার শরিফুলের বিরুদ্ধে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের দুটি মামলা রয়েছে। কালুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা এবং বদির বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় মাদক মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আক্রমণের যে ধরণ, তা দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে এটা হয়তো ভীতি প্রদর্শনেরই একটা প্রয়াস ছিল।

 

Comments (০)
Add Comment