বিএমডিসির নিবন্ধন জালিয়াতি পিরোজপুরে ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের দুই বছরের সাজা

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সুভাষ চন্দ্র মোহস্ত (৫০) নামে এক ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলায়। এর আগে একাধিকবার ভিন্ন নামে রোগীদের সঙ্গে তার প্রতারণার প্রমাণ রয়েছে।

রোববার (২০ এপ্রিল) বিকেলে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দরে সিয়াম ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় তাকে আটক করা হয়।
মঠবাড়িয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইনের ২৮(৩) ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘সুভাষ নিজেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে মঠবাড়িয়ায় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন এবং এজন্য তিনি ঢাকার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিয়াকত হোসাইনের পরিচয় ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একপর্যায়ে সুভাষ নিজের প্রতারণার কথা স্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত, রংপুর মেডিকেল কলেজ এমবিবিএস সম্পন্ন করা নুরুল হাসান নামে এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ২০১৬ সালে বিএমডিসিতে নিবন্ধন নেন, জালিয়াতি বলে ধরা পড়লে যা বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে বিএমডিসি সতর্ক করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিয়াকত হোসাইনের পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।

 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল নোয়াখালীতে তাকে প্রমাণসহ ধরে থানায় সোপর্দ করেন চিকিৎসকরা। একই অভিযোগে এরও আগে চট্টগ্রাম ধরা পড়েছিলেন সুভাষ চন্দ্র মোহস্ত।

 

বিএমডিসি জানিয়েছে, কোন ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে একজন স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসক বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকৎসক হিসাবে নিবন্ধন অথবা নিবন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহণ অথবা মিথ্যা বা প্রতারণামূলক প্রতিনিধিত্ব প্রকাশ করার চেষ্টা করলে অথবা মৌখিক বা লিখিতভাবে উক্তরূপ ঘোষণা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য থেকে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

‘এমতাবস্থায়, তিনি নিজেকে চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতে কিংবা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালক করতে পারবেন না। তিনি যদি চিকিৎসা কার্য চালিয়ে যান, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে সকলকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো’, বলেছে চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

Comments (০)
Add Comment