হেলথ ইনফো ডেস্ক :
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। বহির্বিভাগে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের দুই কনসালটেন্টকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) তাদের বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি ইস্যু করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে আসেন। বিষয়টি যাচাই করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসক কোনো ছুটি না নিয়েই অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাদের শোকজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও তারা একই ধরনের অনিয়ম করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের শোকজ করা হয়েছে। কখনো অসুস্থতার কারণ, আবার কখনো পারিবারিক সমস্যার কথা বলে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে ধারাবাহিকভাবে তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট পদগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, কনসালটেন্টদের মধ্যে অনিয়মিত উপস্থিতির প্রবণতা রয়েছে। অনেকেই সপ্তাহে দুই-তিন দিন দায়িত্ব পালন করেন—যা এক ধরনের ‘ওপেন সিক্রেট’।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং আগের দিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের উদ্দেশ্যে এই পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযানকালে দেখা যায়, বহির্বিভাগে কর্মরত তিনজন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকলেও বাকি দুজন কোনো কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত দায়িত্বে অনিয়ম এবং হাজিরা খাতায় গড়মিলের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযান শেষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান-কে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সব কনসালটেন্টকে সপ্তাহে ছয় দিন নিয়মিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।