Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়দেশের ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে

দেশের ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। যাদের প্রতি পাঁচজনের তিনজনই নারী। এছাড়া প্রতি ২৩শ’ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব থাইরয়েড দিবসে আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিয়ম সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে। ফলে যে পরিবারে থাইরয়েড রোগী আছে ওই পরিবারের সব সদস্যের থাইরয়েড স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) জরুরি। বিশেষ করে মায়েদের গর্ভধারণের পূর্বে, শিশুর জন্মের পর, বয়ঃসন্ধিকালে এবং বয়স ৪০ হওয়ার পর অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।

এর আগে চার দিনব্যাপী ‘থাইরয়েড মেলা’ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের (বিইউএস্এইচ) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহজাদা সেলিম। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন নিনমাসের অধ্যাপক ডা. মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ওফ থাইরয়েড মেডিসিন অ্যান্ড ইমেজিং রিসার্চের (বিটমির) সিনিয়র শিক্ষক ডা. মোহিত-উল-আলম, ডা. সোনিয়া ফেরদৌস, ডা. রোমেলা ইয়াসমীন তৃণা প্রমুখ।

সভায় থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম ফজলুল বারী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েড রোগ বিস্তারে বংশগতির প্রভাব রয়েছে, বিশেষ করে দাদী, নানী বা মায়ের থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের ও আত্মীয়স্বজনদের থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ছাড়াও আট শতাংশ রোগী সাব-ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম থাইরয়েড চিকিৎসায় দি থাইরয়েড সেন্টার ও থাইরয়েড মেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ক্রমবর্ধমান থাইরয়েড রোগী ও থাইরয়েড ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার জন্য দেশে অপ্রতুল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ওজন বাড়া বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, শীত বা গরম অসহ্য লাগা, শরীর ব্যাথা, চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা, বুক ধড়ফড় বা হাত অথবা পা কাঁপা, গলার স্বর বসে যাওয়া, মানসিক সমস্যা, গলা ফোলা, নিঃসন্তান দম্পতি, বারবার গর্ভপাত ও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন।

ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, থাইরয়েড একটি নীরব ঘাতক। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন, ফলে রোগটি দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায় এবং পরে গুরুতর আকার ধারণ করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা এবং প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয়ই থাইরয়েডজনিত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সভায় আরও জানানো হয়, জনসচেতনতা তৈরি করতে দ্যা থাইরয়েড সেন্টার ও বিটমির প্রায় দুইযুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সেন্টারটির প্রায় দশ হাজার নিয়মিত সদস্য আছে। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষ্যে চার দিনব্যাপী এই থাইরয়েড মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় প্রায় তিন হাজার রোগীর বিনামূল্যে ও কম মূল্যে সেবা দেওয়া হবে। রোগীদের স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা, যাদের থাইরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের ৫০ শতাংশ ছাড়ে ও এক বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। ২৫ শতাংশ ছাড়ে থাইরয়েড টিউমার আরএফ অথবা লেজারের মাধ্যেমে অ্যাবলেশন, কালার ডপলার স্ক্যান অথবা ইলাসটোস্ক্যান, থাইরয়েড গ্রন্থি পয়টার অথবা টিউমার অথবা ক্যানসারের রেডিওফ্রিকুয়েন্সি, লেজার ও স্ক্লেরোথেরাপ করা হবে। অধ্যাপক এবং কনসালটেন্ট চিকিৎসক ৫০০ টাকায় রোগী দেখছেন, ৩৫০০ টাকায় থাইরয়েড চেকআপ, রক্ত, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments