হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের একটি বিশেষ ধরন ম্যাচিউরিটি-অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (মডি) উল্লেখযোগ্য হারে শনাক্ত হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি পাঁচজনের একজন এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। ‘ডিসেমিনেশন অফ পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অফ ডা. মাশফিকুল হাসান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে মডির সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানান, এসব জিনগত পরিবর্তন মূলত কম পরিচিত জিনে ঘটেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
গবেষকরা বলেন, জিনগত এই পরিবর্তন থাকা ও না থাকা রোগীদের ক্লিনিক্যাল উপসর্গ প্রায় একই হওয়ায় তাদের আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে।
গবেষণাটি প্রাথমিক ও অনুসন্ধানমূলক হলেও এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীতে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তাই দেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী নির্ণয় পদ্ধতি ও চিকিৎসা কৌশল উন্নয়নে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, দেশে এ ধরনের জেনেটিক গবেষণা জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হলেও রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গবেষণা বাড়ানো জরুরি।
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ ও ডা. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জানান, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে গবেষণালব্ধ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত রোগীসেবায় উৎসাহ দেওয়াই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তারা আরও জানান, মডি ডায়াবেটিসের কিছু ক্ষেত্রে ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজনও পড়ে না। তাই এ ধরনের ডায়াবেটিস সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কিউ-১ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা এর বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।