হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। দেশটির বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজসহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।
রোবাবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘শনিবার সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় এই কাপুরুষোচিত হামলাটি ঘটেছে। এ সময় খামেনি তার নির্ধারিত দায়িত্বপালন করছিলেন এবং তার কর্মক্ষেত্রে (দপ্তরে) উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের সুপ্রিম লিডারের নিহত হওয়ার খবর দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘ইরানের জনগণকে জানানো হচ্ছে যে, শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও।
খামেনির নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান।
এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার, যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল।
‘খামেনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না’—যোগ করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সাথে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।
শনিবার খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে তার প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।