Wednesday, June 3, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালক তোপের মুখে নিজ কার্যালয় ছাড়লেন

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালক তোপের মুখে নিজ কার্যালয় ছাড়লেন

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মামুনুর রশীদকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের নেতারা।

বুধবার (৩ জুন) নিজ কার্যালয়ে দায়িত্বপালনকালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের নেতাদের তোপের মুখে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ে ডা. মামুনুর রশীদ। এসময় তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসক হওয়ার সত্ত্বেও কোন ক্ষমতাবলে হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন—এমন প্রশ্নের সম্মুখিন হন। এছাড়া, আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তার নেতৃত্বে হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও নার্সরা কাজ করবে না বলে জানিয়ে দেন। তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যও বলেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকালে ডা. মামুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘আংশিক সত্য’ বলে স্বীকার করেন গণমাধ্যমে কাছে। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে স্বাচিপের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন, যদিও তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবন বিএনপিপন্থি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মন্ত্রণালয়ে যাবেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে গ্রহণ করবেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি মামুনুর রশিদ ‘ফ্যাসিবাদ’ তথা আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন এবং তিনি তথ্য গোপন করে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার নিয়োগ বাতিল করে পরিচালকের পদে এমন কাউকে নিয়োগ দিতে হবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিলেন এবং এই পদের জন্য যোগ্য।

এদিকে ডা. মামুনুর রশীদ তার কার্যালয় ত্যাগ করার পর বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সামনের নামফলক (নেমপ্লেট) খুলে ফেলেছেন এবং চূড়ান্ত কোনো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়টি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। এসময় পরিচালক পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন।
এর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর গত ২০ মে যোগদান করতে এসে কলেজ শাখার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে যোগদান না করেই দ্রুত চলে যান তিনি। এর একদিন পর ২১ মে তিনি যোগদান করেন। যোগদানের অল্প কয়েকদিনের মাথায় আজ দুপুর ১২টার দিকে তোপের মুখে তাকে কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments