হেলথ ইনফো ডেস্ক:
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. নাসির, যিনি ৪৮তম বিসিএস ব্যাচের চিকিৎসক এবং বর্তমানে সদর হাসপাতালে সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত আছেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত ওই রোগীকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল। তার রক্তচাপ ছিল ৬০/৪০ এবং দুই দিন ধরে বুকে ব্যথা ছিল। রোগীর স্বজনরা ঝুঁকিপত্রে স্বাক্ষর করে ঢাকায় স্থানান্তর না করে সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, রোগী কার্ডিওজেনিক শকে চলে যাওয়ায় তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক রোগীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর রোগীর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা জরুরি বিভাগের দরজা ও কাচ ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ডা. নাসিরকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তিনজন আনসার সদস্যও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার মুখে চিকিৎসক একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত চিকিৎসককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এ ঘটনার পর চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


