হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বাংলাদেশে প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ অ্যাজমায় ভুগছেন, যাদের একটি বড় অংশ প্রচলিত চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত সাড়া পান না। এ ধরনের জটিল অ্যাজমা রোগীদের (রিফ্র্যাক্টরি) জন্য আধুনিক বায়োলজিক্যাল থেরাপি ‘ডুপিলুম্যাব’ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী ছয় বছর বা তার বেশি বয়সী যেসব রোগী স্টেপ-৫ চিকিৎসায় রয়েছেন এবং যাদের রক্তে ইওসিনোফিলের মাত্রা ১৫০/মাইক্রোলিটারের বেশি অথবা এফইএনও ২৫ পিপিপি’র উপরে, তাদের ক্ষেত্রে ডুপিলুম্যাব অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে ইওসিনোফিলের মাত্রা ৩০০/মাইক্রোলিটারের বেশি হলে এর কার্যকারিতা আরও বেশি দেখা যায়।
তিনি বলেন, শ্বাসনালীর টাইপ-২ ইনফ্ল্যামেশনে আইএল-৪ ও আইএল-১৩ নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইটোকাইন ভূমিকা রাখে। ডুপিলুম্যাব এই দুই সাইটোকাইনের কার্যক্রম একযোগে বাধাগ্রস্ত করে রোগের মূল প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনে। এর ফলে আইজিই উৎপাদন কমে, মিউকাস নিঃসরণ হ্রাস পায়, এয়ারওয়ে হাইপাররেসপন্সিভনেস কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে এয়ারওয়ে রিমডেলিং প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এছাড়া এই থেরাপির মাধ্যমে ইওসিনোফিলের সংখ্যা ও এফইএনও লেভেল কমে গিয়ে রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসে, যা জটিল অ্যাজমা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ডা. আজাদ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফের সহায়তায় সানোফি ফার্মাসিউটিক্যালসে প্রস্তুত প্রায় তিন হাজার সিরিঞ্জ ডুপিলুম্যাব (ডুপিক্সেন্ট) রামেক হাসপাতালে অনুদান হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অ্যাজমা, সিওপিডি, কিছু জটিল অ্যালার্জিজনিত রোগ এবং অটোইমিউন চর্মরোগে এই ওষুধের বিনামূল্যে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বক্ষব্যাধি, চর্মরোগ বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যথাযথভাবে রেফারকৃত রোগীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে এই উচ্চমূল্যের ওষুধ (প্রতি সিরিঞ্জের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন।
চিকিৎসক মহলের মতে, এ উদ্যোগ দেশের জটিল অ্যাজমা ও অ্যালার্জিজনিত রোগ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।