Take a fresh look at your lifestyle.

বিএমইউতে চিকিৎসক সপ্তাহ উপলক্ষে গোলটেবিল আলোচনা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আইনের দাবি

৪৬

বিএমইউতে চিকিৎসক সপ্তাহ উপলক্ষে গোলটেবিল আলোচনা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আইনের দাবি
হেলথ ইনফো ডেস্ক :
চিকিৎসক সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ‘সহিংসতা প্রতিরোধের সময় এখনই; চিকিৎসকের উপর সহিংসতাকে না বলুন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-তে এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এ আলোচনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন প্ল্যাটফর্ম ও চিকিৎসক সপ্তাহ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। ভাস্কুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, সংকট মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ টিম গঠন জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের ন্যূনতম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় ‘নিড বেইজড অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট ও বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় ৫৫ শতাংশ চিকিৎসক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি তাদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।

বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি রোগীর আস্থা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা পেশায় নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা এবং অনৈতিক আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা চিকিৎসকদের মর্যাদা বাড়াবে।

ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ আলোচনা ও মূল্যায়ন জরুরি। চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক বন্ধুসুলভ হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আতিকুল হকসহ অন্যান্য বক্তারা চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, ইভিডেন্স-বেইজড চিকিৎসা চর্চা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক শিশির মোড়ল বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, রোগজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু বা চিকিৎসাজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া চিকিৎসকদের দায়ী করে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

আয়োজকরা জানান, ২৪ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চিকিৎসক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের চিকিৎসকরা নিরলস পরিশ্রম করে স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতা এ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপের আহ্বান জানানো হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.