Sunday, June 14, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়বাজেটে তামাকজাত পণ্যে আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

বাজেটে তামাকজাত পণ্যে আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

হেলথ ইনফো ডেস্ক :

জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যে আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে এসব পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন তিনি।

প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্ভাবনা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সর্বোচ্চ সমন্বয় বিবেচনায় নিয়ে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যমস্তর ৯২ টাকা, উচ্চস্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকায় নিম্নস্তরে ৬০ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যমস্তরে ৮০ টাকা থেকে ১২ টাকা বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরে ১৪০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরে ১৮৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ২১০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাজেটে এবার প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর নিম্নবর্ণিত হারে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। নিকোটিন পাউচের ৫০০ টাকায় (প্রতি ১০ গ্রাম) ৪০ শতাংশ ও হিটেড টোব্যাকোয় ২১০ টাকায় (প্রতি ১০ শলাকা) ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ তামাক পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে তামাক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিবিড় মনিটরিং করার জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং দেশীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক ও কর ছাড় দিয়েছে সরকার।

বাজেটের সবচেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত এসেছে কিডনি রোগীদের জন্য। ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ার অপরিহার্য উপাদান ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে এতদিন উচ্চ কর ছিল। নতুন বাজেটে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর আরোপিত বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের এই কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাইসিস বাবদ খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসাধীন পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৩.৮ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে ভুগছেন। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং তাদের ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) একটি সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস রোগীদের ৯২% পরিবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয় কমাতে কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১০% ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব বাজেটে করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি কার্ডিয়াক স্টেন্টের দাম ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একইভাবে কমতে পারে চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা। এ ছাড়া হার্টের রিংয়ের দাম ১০৯৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২০০০ টাকা করেছে সরকার।

অন্যদিকে ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার পথে বসে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও কম দামে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার তালিকায় নতুন করে আরও ৯টি কাঁচামাল যুক্ত করা হয়েছে। এসব কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে দেশে তৈরি ক্যান্সারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments