Sunday, May 24, 2026
Google search engine
Homeজানা অজানাচমক দেখালেন পিত্তথলির পাথর অপসারণে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা

চমক দেখালেন পিত্তথলির পাথর অপসারণে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
পিত্তথলির পাথর অপসারণে চিকিৎসাসেবায় চমক দিয়েছেন রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের বাসিন্দা ডায়ানা চাকমা (২৬) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

তার হতদরিদ্র পরিবার ডায়ানাকে জেলা সদরে এনে পরীক্ষা করালে জানা যায়, তিনি কোলেডোকোলিথিয়াসিসসহ তীব্র কোলেসিস্টাইটিসে আক্রান্ত।

অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পিত্তথলির সংক্রমণ ও পাথর।

মানে পিত্তথলির হঠাৎ সৃষ্ট প্রদাহ বা ইনফেকশন, যা সাধারণত পিত্তথলির নালীতে পিত্তপাথর আটকে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। আর কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো, যখন পিত্তথলির পাথরটি পিত্তথলি থেকে বের হয়ে প্রধান পিত্তনালীতে আটকে যায়।

এই দুটি রোগ একসঙ্গে থাকার অর্থ হলো, ডায়ানার পিত্তথলিতে সংক্রমণ রয়েছে এবং সেই সঙ্গে পিত্তনালীতেও পাথর আটকে পিত্তরসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও নানা পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণে ডায়ানা চাকমার চিকিৎসা করাতে না পেরে তার পরিবার হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার সাজেক ভ্রমণে গেলে রোগী ও তার পরিবার চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি নিয়ে সাহায্য ও পরামর্শ চান।

চেয়ারম্যান দ্রুত বিষয়টি রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসাকে অবহিত করেন এবং রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সিভিল সার্জন রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান ও সার্জারি বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ডায়ানা চাকমার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানান এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

২০ মে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. টুটুল চাকমা এবং ডা. সৈকত চাকমার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল দ্রুততার সঙ্গে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি পদ্ধতিতে ডায়ানার পিত্তথলির পাথর সফলভাবে অপসারণ করেন এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেন।

চিকিৎসার পর ডায়ানা চাকমা ভালো আছেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি হলো এমন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যেখানে বড় ছেদের পরিবর্তে পেটে কয়েকটি ছোট ছেদের মাধ্যমে গলব্লাডার অপসারণ করা হয়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও রোগীর প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দেখে হয়তো ডায়ানা চাকমা ও তাঁর পরিবার আমাদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও অবগত। ডায়ানার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে ছিল, তাই আমরা তাকে সুস্থ করতে পেরেছি।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে রোগীর ঝুঁকি বিবেচনায় এবং আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যত্র রেফার করতে হয়। অযথা কোনো রোগীকে রেফার করে ভোগান্তিতে ফেলতে আমরা চাই না। তবে আশার কথা হলো, আমরা দিন দিন আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments