Thursday, July 23, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে জাতীয় কাঠামোয় ভিপিএল মডেল অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে জাতীয় কাঠামোয় ভিপিএল মডেল অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেলকে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডাররা কিশোর-কিশোরীদের প্রাথমিক পরামর্শ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই নীতিগত অনুমোদন ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে এই মডেলকে জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মডেল প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারা।

সিরাক-বাংলাদেশ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিয়ে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (পিএইচসি ও আইটিএইচসি) এবং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান মানবসম্পদের ঘাটতি মোকাবিলায় ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেল একটি কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, সরকার অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডাররা কিশোর-কিশোরীদের প্রাথমিক কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেল প্রদান করে থাকে। এর ফলে তারা কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটির মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডারের প্রয়োজনীয়তা, তাদের কার্যক্রম এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান শূন্যতা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন সিরাক-বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. নাজমুল হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভিপিএল মডেল অত্যন্ত কার্যকর। এখন প্রয়োজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বিত আলোচনা ও কাঠামোবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই মডেলকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় টেকসইভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।’

আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মডেলকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় টেকসইভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি, নীতিগত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

তারা বলেন, অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন কারণে সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে দ্বিধায় ভোগেন। এ বাস্তবতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডাররা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে এবং প্রাথমিক কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও রেফারেল সেবার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তারা আরও বলেন, জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অ্যাডোলেসেন্ট ফোকাল বডি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই কাঠামোর সঙ্গে ভিপিএল মডেলকে সমন্বিত করে একটি মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্যাকেজ, বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, পলিসি ব্রিফ এবং আর্থিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মডেল সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক কিশোর-কিশোরীর জন্য সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মো. বনি আমিন (বরগুনা)। তিনি বলেন, তিনদিনব্যাপী ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তারা জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশল, বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন, যোগাযোগ দক্ষতা এবং গ্রুপ ওয়ার্ক বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তারা সমবয়সী কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করেন, মানসিক সহায়তা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেল শুধু স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করে না; এটি তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, স্বেচ্ছাসেবী চেতনা, অ্যাডভোকেসি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যালয়, পরিবার, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রাইমারি হেলথ কেয়ার) ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার; উপপরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ) ডা. মো. সেকান্দার আলী মোল্লাহ; উপপরিচালক (প্রাইমারি হেলথ কেয়ার) ডা. নাসরিন আক্তার; সহকারী পরিচালক (বিদ্যালয় স্বাস্থ্য) ও টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের ফোকাল পার্সন ডা. আসিফ ইকবাল; সহকারী পরিচালক (পিএইচসি/আইটিএইচসি) ডা. মীর আনোয়ার হোসেন, ডা. সাবরিনা হক ও ডা. শারমীন শাহনাজ; জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, বরগুনার উপপরিচালক মাহমুদুল হক আজাদ; সিরাক-বাংলাদেশের উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম) ও টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য সচিব মো. সেলিম মিয়া; টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ডা. জেবুন নেছা রহমান এবং সাবেক ও বর্তমান ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার কাকলী আক্তার শুনছি, মো. কামরান মিয়া, মো. বনি আমিন ও সুমাইয়া আক্তার।

এ ছাড়াও সিরাক-বাংলাদেশের প্রোগ্রাম লিড শাহীনা ইয়াসমিন; উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. সেলিম মিয়া এবং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য সচিব সংগীতা সরকার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার লুৎফা পাঠান, অ্যাসোসিয়েট ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন ফারিয়া সুলতানা তৃণা এবং কমিউনিকেশন অফিসার এনামুল হক রনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সভায় গৃহীত সুপারিশসমূহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে, যাতে জাতীয় পর্যায়ে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার (ভিপিএল) মডেলের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং যুববান্ধব হয়ে উঠতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments