হেলথ ইনফো ডেস্ক :
রোগীদের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবায় নতুনমাত্রা যোগ করেছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ধিলন রায়ের উদ্ভাবনী ‘নিওসেভার’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ। ব্যবহারকারীর অবস্থানের কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুলেন্স শনাক্ত করে দ্রুত বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়ায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে তার এ উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
গত ১৮ জুলাই আয়োজিত একটি জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় দেশসেরা তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘নিওসেভার’। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তাকে এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
নিওসেভার অ্যাপের উদ্ভাবক ধিলন রায় গণমাধ্যমকে জানান, দেশের অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স সেবা ফোনকল নির্ভর। যার কোন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সমন্বয়-ব্যবস্থা নেই। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিওসেভার অ্যাপের মাধ্যমে জরুরী অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
‘নিওসেভার’ অ্যাপ মাত্র তিনটি ধাপে ব্যবহার করা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান (লোকেশন) নির্বাচন করবেন। এরপর গন্তব্য নির্ধারণ করবেন। সবশেষে বুকিং নিশ্চিত করলে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সচালকের কাছে অনুরোধ পৌঁছে যাবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী প্রয়োজনীয় পরিবহনসেবা পেতে পারেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রামের আওতায় নিওসেভারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। মাত্র পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে নিওসেভার। বর্তমানে শতাধিক সদস্যের নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীরা যুক্ত রয়েছেন। আঞ্চলিক অ্যাম্বুলেন্স সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেবাটি উন্নত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে ‘নিওসেভার’-এর ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন এটি একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ধিলন রায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ধনঞ্জয় রায় এবং মা মীরা রানী বাড়ৈ। তিনি খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। নিওসেভার নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরী মাধ্যমে তার গবেষণার যাত্রা শুরু হয়।


