Thursday, July 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবরগুনায় নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব, অভিযোগ প্রত্যাহারের পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত

বরগুনায় নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব, অভিযোগ প্রত্যাহারের পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
এক মাস আগে যোগ দেয়া নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম রায়হানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না কেন জানতে চেয়ে শোকজও করা হয়েছে তাকে।

বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে এর আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী।

জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন ডা. লনী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত জুন মাসে হাসপাতালটির আবাসিক সার্জন পদে যোগদান করেন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী। তিনি যোগদানের পর থেকে সুযোগ পেলেই কারণ ব্যতিরেকেই তাকে অফিস কক্ষে ডাকতেন ডা. রেজওয়ানুর আলম রায়হান। সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিতও করতেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক তাকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে অফিস কক্ষে ডেকে তার ডরমিটরির কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। পরদিন হাসপাতালে রাউন্ড চলাকালে স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযোগে তিনি নিজেকে সম্মানহানির শিকার ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করে বিষয়টির তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা জানান আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী
তবে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ প্রত্যাহারের তথ্য জানান ডা. লনী। ওই সময় তিনি জানান, হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়ায় তিনি তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ডা. লনী বলেন, আমরা কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেটি সমাধান হয়েছে। তাই আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করেছি।

এদিকে গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যসচিব স্বাক্ষরিত বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামায় হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে বলা হয়েছে, আপনার কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। ফলে কেন আপনাকে এই বিধিমালার অধীনে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

অপর এক প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব হতে বিরত রাখার আবশ্যকতা, তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে; সেহেতু ডা. রেজওয়ানুর আলম রায়হানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকেই এই আদেশ কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার অভিযুক্ত হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, ডা. লনী নিয়মিত অফিস করতেন না এবং সময়মতো উপস্থিত হতেন না। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সেটি সমাধান হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments