হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি ধরে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ক্যান্সার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামের ‘কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ক্যান্সার চিকিৎসাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব করতে এটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা জরুরি।
তিনি জানান, ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এক লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ ক্যান্সারজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাব, পাশাপাশি উচ্চ চিকিৎসা ব্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ক্যান্সার ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন এবং সমন্বিত এনসিডি (অসংক্রামক ব্যাধি) কৌশল প্রণয়ন করা করেছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার জন্য হাসপাতালভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী কয়েক লাখ কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জরায়ুমুখ, স্তন ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে কমিউনিটি-ভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তবে স্বাস্থ্য খাতের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি, দক্ষ জনবলের অভাব, সেবার অসম বণ্টন এবং উচ্চ চিকিৎসা ব্যয় এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় রাজধানীর বাইরে ক্যান্সার চিকিৎসা বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্যাথলজি ও অনকোলজি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি, ক্যান্সার গবেষণা, ডিজিটাল হেলথ এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদারে সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এসময় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্র, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন তিনি।


