Wednesday, May 13, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়হান্টাভাইরাস: ফের নতুন মহামারী আতঙ্ক

হান্টাভাইরাস: ফের নতুন মহামারী আতঙ্ক

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
মেডিভয়েস ডেস্ক: মহামারি করোনা ভাইরাসের স্মৃতি বিশ্ব থেকে এখনো মুছে যায়নি। এরই মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ডাচ প্রমোদতরী এমভি হনডিয়াসে একটি বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি দেশে কোভিড-১৯-এর মতো মহামারীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রমোদতরীটিতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় হান্টাভাইরাসের পাঁচটি সংক্রমণের বিষয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও তিনজন এই ভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইন (হান্টাভাইরাসের একটি ধরন) বহন করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সংক্রমণের এই ঘটনা সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে মহামারির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা একটি জাহাজে একাধিক সংক্রমণের ঘটনা জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আটলান্টিকে আতঙ্কের প্রমোদতরী
আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে যাত্রা করা এই প্রমোদতরীতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যাত্রাপথেই কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। পরে পরীক্ষায় হান্টাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। সংক্রমণের ফলে ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আরও কয়েকজন অসুস্থ রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজটিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
যেভাবে জাহাজে এই সংক্রমণ শুরু
জানা গেছে, সমুদ্রযাত্রায় জাহাজে ওঠার আগে ডাচ দম্পতি চিলি, আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ে অঞ্চলে একটি পাখি পর্যবেক্ষণ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, যে অঞ্চলগুলো ভাইরাস বহনকারী ইঁদুরের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এই সংক্রমণ শুরু হয়।
আমেরিকায় বিশেষ সতর্কতা
জেক রোজমারিন নামক একজন আমেরিকান ভ্রমণ বিষয়ক কন্টেন্ট নির্মাতা যিনি হান্টাভাইরাস-আক্রান্ত প্রমোদতরীটিতে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর আমেরিকান প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে। পরে নেব্রাস্কার কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সেখানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে আরো আরও ১৫ জনকে। এরপর সাত অঙ্গরাজ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ফ্রান্স ও স্পেনেও হান্টা আতঙ্ক
এদিকে এপি জানিয়েছে, ওই প্রমোদতরীতে অংশ নেয়া এক ফরাসি নারীকে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় কৃত্রিম ফুসফুস দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) প্যারিসের ওই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই ডাচ প্রমোদতরী থেকে সরিয়ে আনা একজন স্প্যানিশ যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। রোববার জাহাজটি থেকে সরিয়ে আনা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
ভারেতেও উদ্বেগ
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, কেপ ভার্দের উপকূলে জাহাজটিতে আটকেপড়া ১৫০ জনের মধ্যে দুজন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। এই খবরে ভারতীয় প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
হান্টাভাইরাস যেভাবে ছড়ায়
হান্টাভাইরাস হলো ইঁদুরবাহিত ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি বিরল, কিন্তু গুরুতর সংক্রমিত রোগ। প্রধানত আক্রান্ত ইঁদুরের সংস্পর্শে অথবা তাদের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায় এর রোগের সংক্রমণ হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই প্রাদুর্ভাবে শনাক্ত হওয়া অ্যান্ডিস স্ট্রেইনটি খুবই ভয়ানক, কারণ এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, হান্টাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি হতে পারে, যা এই রোগটিকে বিশেষভাবে বিপজ্জনক করে তোলে।
সারা বিশ্বে হান্টাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইন বিদ্যমান। উত্তর আমেরিকায় এই সংক্রমণ সাধারণত হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমের (এইচপিএস) সাথে সম্পর্কিত, যা বিভিন্ন হান্টাভাইরাস স্ট্রেইনের কারণে সৃষ্ট একটি গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের রোগ। ইউরোপ এবং এশিয়ায় কিছু স্ট্রেইন হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোমের (এইচএফআরএস) সাথে যুক্ত, যা প্রধানত কিডনিকে আক্রান্ত করে।
যেসব উপায়ে ছড়াতে পারে
ইঁদুরের বর্জ্য থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ, ইঁদুরের কামড়, ইঁদুর দ্বারা দূষিত খাবার খাওয়া এবং দূষিত স্থান স্পর্শ করার ফলে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।
লক্ষণ
হান্টাভাইরাসের লক্ষণগুলো প্রায়শই ফ্লু-এর মতো হয়। এ ছাড়াও জ্বর, কাঁপুনি, শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্রমাগত কাশি এবং বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
হান্টাভাইরাসের চিকিৎসা
বর্তমানে কোনো দেশ হান্টাভাইরাস টিকা অনুমোদন দেয়নি, যদিও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ টিকা তৈরির জন্য গবেষণা চালাচ্ছে। হান্টাভাইরাস সংক্রমণের জন্য সার্বজনীন কোনো অ্যান্টিভাইরাস ওষুধও নেই। এর চিকিৎসায় প্রধানত লক্ষণের আলোকে পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন থেরাপি এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন রোগীদের অক্সিজেনের মাত্রা ও রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments