Take a fresh look at your lifestyle.

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট, বরাদ্দ কমেছে ৭৭ ও ৭৩ শতাংশ

১৮৬

হেলথ ইনফো ডেস্ক :

সরকার দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) চূড়ান্ত করেছে, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট করা হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৭৭ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ কমেছে ৭৩ শতাংশ।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় এই সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়।

সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের নিজস্ব কোষাগার থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই আরএডিপির অনুমোদন দেবেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বাস্তবায়নে অগ্রগতি কম এবং কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ—এমন কয়েকটি বড় কর্মসূচি বাতিল বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বড় কাটছাঁটের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক সচিব জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে যেসব খাতে অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা কম ছিল, সেগুলোর বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল এডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কিছু খাতে বরাদ্দ বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে ব্যাপক হারে কমানো হয়েছে।

এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বেড়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ২৮ শতাংশ। স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে আট শতাংশ। এর বাইরে অন্য খাতগুলোতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রবণতা খুব সীমিত।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট করা হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৭৭ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ কমেছে ৭৩ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ কমেছে ৫৫ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষা খাতে কমেছে ২৯ শতাংশ। বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ এবং নৌপরিবহন, রেলপথ ও কৃষিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ করে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ। সামাজিক সুরক্ষা খাতে কমেছে ৭৩ শতাংশ। শিক্ষা, পরিবহন ও ধর্ম খাতে বরাদ্দ কমেছে ৩৫ শতাংশ। সড়ক পরিবহন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

অন্যদিকে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ২০ শতাংশ, যা সেক্টরভিত্তিক সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

নগর পরিবহন খাতে বিশেষ করে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোতে বড় কাটছাঁট এসেছে। মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে বরাদ্দ আট হাজার ৬৩১ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০১ কোটি টাকা। কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি। মতলব উত্তর–গজারিয়া সড়কের ওপর মেঘনা–ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ।

বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যেও বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে। মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৫ কোটি টাকা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমে হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। বিআরটি ও রেললাইন উন্নয়ন প্রকল্পেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

সামাজিক খাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে কমেছে ৪১ শতাংশের বেশি। নগর জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ৮০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
সূত্র : মেডিভয়েস

Leave A Reply

Your email address will not be published.