Take a fresh look at your lifestyle.

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের রোমানা ঢাবির তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষায় প্রথম

৪৭

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৫টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের (এসএসএমসি) শিক্ষার্থী রোমানা রহিম মুনা। মৌলিক তিনটি বিষয়েই তিনি অনার্স নম্বর পেয়েছেন।

এ বছরে এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে সবার শীর্ষে উঠে এসেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোমানা রহিম মুনা। তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা কমিউনিটি মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি ও প্যাথলজি তিনটি বিষয়েই অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিনি।

রোমানা রহিম মুনার এই গৌরবমণ্ডিত সাফল্যের গল্প শুনেছে মেডিভয়েস।

সেরা ফলাফল অর্জনের অনুভূতি জানতে চাইলে রোমানা রহিম মুনা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সর্বপ্রথম আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি। আল্লাহর রহমত ছাড়া এমন ফলাফল আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না। আমার এই ফলাফল আম্মু-আব্বু ও ম্যামকে জানাতে গিয়ে কান্না চলে এসেছিল। আমি তখন শুধু আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছিলাম।’

তার এই সাফল্যের পেছনে প্রেরণায় কে ছিলেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার অনুপ্রেরণা যদি বলি, তবে সেটা আমার মা। এ ছাড়া আমার আব্বু এবং এই ফেজের ব্যাচ টিচার ম্যামদেরও আমার প্রতি একটা প্রত্যাশা ছিল যে, আমি ভালো কিছু করতে পারি। তারা সবসময় আমাকে মোটিভেট করেছেন।’

পড়াশোনার প্রস্তুতি

মেডিকেলে ডিসিপ্লিনড শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন একটি টপিক পড়তাম, তখন সেটি খুব গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করতাম, যাতে মনে রাখা সহজ হয়। আগের বছরের প্রশ্নব্যাংক বারবার সলভ করতাম, এতে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। আর টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতাম—একটা প্রশ্ন কতটুকু লিখব এবং কত সময় নেব। লিখিত পরীক্ষায় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখার কারণে আলহামদুলিল্লাহ সময়মতো সবগুলো প্রশ্ন ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছিলাম। আর সবসময় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখতে হবে—আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, ইনশা আল্লাহ তিনি আমাকে আমার প্রাপ্যটাই দেবেন। এই বিশ্বাসটা আমার সবসময় ছিল যে আল্লাহ যা করবেন, ভালোর জন্যই করবেন।

আর মেডিকেলে পড়াশোনার চাপ একটু বেশি কিন্তু আমি মনে করি আমরা যদি পড়া জমিয়ে না রাখি এবং প্রতিদিন নিয়মিত নতুন কিছু শিখি, তাহলে পড়াটা বোঝা না হয়ে বরং ইন্টারেস্টিং হয়ে যায়। আসলে আমি যখন পড়তাম, তখন আমার মূল ফোকাস কখনোই শুধু পরীক্ষা ছিল না; আমি জানার জন্য পড়তাম। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে আমার খুবই ভালো লাগত।

কলেজের শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রসঙ্গে রোমানা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার কিছু অসাধারণ বন্ধু, ব্যাচমেট, সিনিয়র ও জুনিয়র আছে, যারা এই মেডিকেল লাইফটা আমার জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমার কলেজের শিক্ষকরা আমাদের নিজেদের সন্তানের মতো করে আগলে রাখেন। আমি অনেক বেশি সৌভাগ্যবান যে এত ভালো একটি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।’

ভালো ফলাফলের জন্য অনুজদের পরামর্শ

‘মেডিকেলে মোটিভেশনের পেছনে না ছুটে ডিসিপ্লিনড হওয়া বেশি কার্যকর। কারণ মোটিভেশন সাময়িক, কিন্তু ডিসিপ্লিন স্থায়ী।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রোমানা জানান, ‘পড়াশোর বাকি সময়টুকু উপভোগ করতে চাই। তবে এই মূহর্তে গাইনি ও অবস–এ যাওয়ার একটা ইচ্ছা আছে। বাকিটা আল্লাহর ওপর ভরসা।’

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে বলেন, ‘আপনাকে পিছিয়ে পড়া যাবে না। কখনোই এই দৌড় থামানো যাবে না। জীবনে যাই হোক, আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করতে হবে—এটাই সবচেয়ে কঠিন। এজন্য প্রচুর ধৈর্য রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, রোমানা রহিম মুনার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই-স্কুল থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসি ট্যালেন্টপুল স্কলারশিপ পেয়ে সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪তম এবং এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ৬২৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া এমবিবিএস প্রথম ও দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেন রোমানা।

অ্যাক্সিস মেডিকেল স্কুল থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ইউটিউব থেকে অ্যাক্সিসের ক্লাস করেছি। ক্লাসগুলো খুবই ইফেক্টিভ ছিল। অ্যাক্সিসে মেডিকেল স্কুল আন্ডারগ্রেড শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশি হেল্পফুল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.