Take a fresh look at your lifestyle.

বিদেশে পড়াশোনা করা চিকিৎসকদের দেশে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হওয়া উচিত

এনডিএফের ইফতার ও চিকিৎসকদের সংবর্ধনায় বক্তারা

৫২

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তাই বিদেশে পড়াশোনা করা চিকিৎসকদের দেশে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হওয়া উচিত। তবে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিছু সময় বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়া ইতিবাচক।

 

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এ ব্লক অডিটোরিয়ামে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) বিএমইউ শাখার ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন বক্তারা। তারা বলেন, চিকিৎসকরা সমাজের অন্যতম মেধাবী শ্রেণি। সে হিসেবে জাতির প্রতি তাদের দায়িত্বও বেশি। তাই রমজান মাসে তাকওয়ার শিক্ষা নিয়ে রোগীদের প্রতি ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে সেবা দেওয়া সবার দায়িত্ব।

 

বিএমইউ এনডিএফের সভাপতি ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ এমপি সদ্য গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের শেখার যাত্রা আজ থেকেই শুরু। কী করতে হবে এবং কেন করতে হবে—এই উপলব্ধি থেকেই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয়। একজন চিকিৎসকের উচিত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবার মনোভাব নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলা।

 

এ সময় তাদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তিনি। বলেন, ‘আমি যখন রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানে এমআরসিপি সম্পন্ন করে লন্ডনে কনভোকেশনে গিয়েছিলাম, তখন কলেজের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সার রিচার্ড থম্পসন। তিনি একটি কথা বলেছিলেন, যা আমি আজও ভুলিনি। তিনি বলেছিলেন, ইয়োর জার্নি অব লার্নিং পিকস টুডে।

 

‘আমরা অনেক সময় মনে করি, এফসিপিএস বা এমডি করে ফেললেই পড়ালেখা শেষ। কিন্তু বিষয়টি আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। শেখার যাত্রা আসলে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করার পরই সত্যিকারের শুরু হয়। কারণ তখন আমরা বুঝতে পারি—আমরা কী করি, কীভাবে করি এবং কেন করি।

 

আলোচনায় চিকিৎসকদের নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য। বলেন, ‘যখন আমরা কোনো জটিল রোগীর চিকিৎসা করি, তখন শুধু গাইডলাইন বা বইয়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করা যায় না—এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। কারণ প্রতিনিয়ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিবর্তন ও উন্নয়ন হচ্ছে। মেডিসিন, সার্জারি বা যেকোনো স্পেশালিটিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখাও আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশে ডাক্তার তুলনামূলকভাবে কম। যারা বিদেশে পড়াশোনা করেন, তাদের দেশেই থাকা দরকার। তবে কেউ যদি কিছু সময়ের জন্য বিদেশে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, সেটাকে আমি খারাপ মনে করি না। অনেকেই যান, কারণ সেখানে শেখার কিছু বিশেষ সুযোগ থাকে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন তৎকালীন পিজিতে ছিলাম, আমাদের পেডিয়াট্রিক্স ওয়ার্ডে প্রায় ৯০ জন রোগী থাকতো, আর রাতে ডিউটি করতাম আমরা মাত্র দুইজন। এত বেশি রোগী থাকলে একটি রোগের গভীরে যাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে যায়। বিদেশে সেই সুযোগটি তুলনামূলকভাবে বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস) একজন রোগী দেখার জন্য আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে হয়তো ৪০ মিনিট আমি রোগীর সঙ্গে কথা বলি এবং তাকে পরীক্ষা করি। বাকি ২০ মিনিট সময় নিয়ে আমি রোগীর ইতিহাস দেখি, প্রস্তুতি নিই এবং কীভাবে রোগীকে মূল্যায়ন করবো তা পরিকল্পনা করি। এই ধরনের সুযোগ আমাদের দেশে কতটা পাওয়া যায়, তা আমি জানি না।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হা‌লিম বলেন, ‘মাহে রমাদান হলো কোরআন নাজিলের মাস। কিন্তু আমরা কোরআনকে কতটুকু জানলাম এবং মানলাম—সেটিই বড় প্রশ্ন। আমরা যেহেতু সমাজের মেধাবী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করি, তাই কোরআনকে বোঝা, তার ওপর আমল করা এবং সমাজে তা প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আমাদের আরও বেশি।

 

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘চিকিৎসকরা সমাজের সবচেয়ে মেধাবী শ্রেণি। তাই জাতির প্রতি তাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। পবিত্র তাকওয়ার মাস রমজানে আমরা সবাই রোগীদের প্রতি ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

এ সময় সদ্য পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন চিকিৎসকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। একই সঙ্গে রমজানে এনডিএফ বিএমইউ শাখা আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.