হেলথ ইনফো ডেস্ক :
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই বাজেটে আরও দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) ও ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারির (বিডিএস) নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে এমবিবিএস কারিকুলামকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক ও ভবিষ্যতমুখী নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিডিএস ও অ্যালাইড হেলথ শিক্ষার কারিকুলামও হালনাগাদ করা হবে।
বাজেটে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং এআইভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক ও ভবিষ্যতমুখী নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মানসম্পন্ন, মানবিক ও আধুনিক চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে এমবিবিএস শিক্ষার বর্তমান কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজকে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিশেষভাবে পুরাতন মেডিকেল কলেজসমূহের একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ অব্যবহৃত অবকাঠামো ব্যবহার করে পাঁচটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গ্রামীণ বাস্তবতা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কমিউনিটি মেডিসিন শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক গ্রামীণ আবাসিক প্রশিক্ষণ (আরিএফএসটি) কার্যক্রম পরিচালনায় এসব অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মধ্যে গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যচাহিদা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মানসিকতা আরও শক্তিশালী হবে।
বাজেটে নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী মানসম্মত ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী।
এ ছাড়া নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং নার্সিং বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্সের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ৪ মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণাও রয়েছে এই বাজেটে।


