Take a fresh look at your lifestyle.

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত থেকে নির্বাচিত হলেন যে চিকিৎসকরা

৫১

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন ১৯ জন চিকিৎসক। তাদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা-১৫ আসনে থেকে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।

তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আবরু মিয়া এবং মাতা মরহুমা খাতিরুন নেছা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

শফিকুর রহমান ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। এর পর ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে (সিওমেক)। সেখান থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর ছাত্র রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। জাসদ ছেড়ে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন তিনি। শফিকুর রহমান সিওমেক ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সিলেট শহর, জেলা ও মহানগরী আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের (সদস্য) প্রত্যক্ষ ভোটে আমীর নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য আমীর হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর জামায়াতের রুকনদের (সদস্য) ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো আমীর হন এবং ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর ২০২৩-২০২৫ কার্যকালের জন্য তিনি আমীর হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন এবং সংগঠনের আমীর হিসেবে বহাল আছেন।

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

কুমিল্লা-১১ আসনে জয় পেয়েছেন একই দলের ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট।

ডা. তাহেরের জন্ম ১৯৫৮ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দ পরিবারে। পিতা মাওলানা সৈয়দ মাজহারুল হক হায়দারি ছিলেন একজন ইসলামের প্রচারক, বক্তা ও পণ্ডিত। মা আকসির-ই-জাহান চৌধুরানী, চট্টগ্রামের ‘কাশগর’ মুসলিম জমিদার পরিবারের সদস্য। ডা. তাহেরের পাঁচ ভাই ও তিন বোন।

তিনি অষ্টম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হন।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলেন্টে বৃত্তি লাভ করেন। বৃহত্তর কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

তিনি ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. হাবিবা ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দম্পতির তিন মেয়ে এবং এক ছেলে আছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ছাত্র রাজনীতি যুক্ত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য হন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ঢামেক ছাত্রশিবির ও ঢাকা শহর শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢামেকে অধ্যয়নের সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র কেন্দ্রীয় ইউনিয়নের (ঢামেকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ

যশোর-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মোছা. সাবিরা সুলতানা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট।

শিশু হৃদরোগ ও ইনটেনসিভ কেয়ার (আইসিইউ) বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম শরীফ হোসেনের ছেলে।

তার জন্ম ১৯৬১ সালে যশোরের খড়কি ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়িতে। তিনি ১৯৭৭ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন।

পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস পাস করে যোগ দেন ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। সেখানে দুই বছর কাজ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে এমআরসিপিসিএইচ, এফআরসিপিসিএইচ এবং ডিসিএইচ ডিগ্রি নেন।

ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ সেখানে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস বার্মিংহামে কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইউরোপ-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর, আল কুরআন একাডেমি লন্ডনের ট্রাস্টি, ইডেন একাডেমি কভেন্ট্রি ইউকের ট্রাস্টি এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়ে দেশে আসেন ডা. ফরিদ। বর্তমানে আদ্ দ্বীন হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনি।

ডা. আব্দুল বারী সরদার

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে পোস্টালসহ মোট কেন্দ্র ১২২টি। আসনটিতে জয় পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল বারী সরদার। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। এই আসনে ৫ হাজার ৭৬৫ ভোটে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

ডা. আব্দুল বারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর নিজের প্রতিষ্ঠিত ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.