হেলথ ইনফো ডেস্ক :
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল দশা, অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।
আমানউল্লাহ আমান বলেন,‘বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র আমাকে প্রচন্ড পীড়া দেয়। আমি প্রায়শই সহযোদ্ধা-কর্মী, পরিচিত স্বজন যেকারো অসুস্থতার কথা শুনলে হাসপাতালে ছুটে যাই। যতবার হাসপাতালে যাই বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ দেখলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিবেশ দেখলে মনে হয়, সুস্থ মানুষ কিছুক্ষণ থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে। এখানে আমি শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দোষ দিচ্ছি না, জনবিস্ফোরণের এই দেশে আসন সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা যে অনেক বেশি সেটাতো দৃশ্যমান কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সরকারি হাসপাতালে ঢুকলেই সিম্পলি বমি এসে যায় গন্ধে! এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান গণমানুষের সরকারকে অবশ্যই আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে অব্যস্থাপনা, দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম এবং সেবার বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশের জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ, জনবল সংকট হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয় সরকারি- বেসরকারিখাত একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা কাটাতে হবে।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘একটা বিষয় ভেবেও অবাক হই এইদেশে এতো হাজার কোটি, শত কোটি টাকার মালিক রয়েছেন আপনারাও যদি একটু সুনজর দিতেন তাহলেও মানুষ একটু স্বস্তি পেত, আপনাদের কি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও এই কাজে এগিয়ে আসা উচিত না? আপনি যে আজকে হাজার কোটি, শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার পিছনে তো এই দেশের গরীব মানুষের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটু সর্দি কাশি হলেই মাউন্ট এলিজাবেথ, ইউরোপ-আমেরিকায় চিকিৎসা নিতে যান কিন্তু যাদের কাঁধে ভর করে আপনি এই অবস্থানে সেই মানুষদের জন্য কিছু করা তো আপনাদের দায়িত্ব। গত কয়েকদিন আগে ঢাবির টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আমি বলেছিলাম – যেদিন আমাদের দেশের এমপি- মন্ত্রীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে আসবে সেদিন থেকে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা কেটে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের সরকার এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা শিগগিরই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই করুণ দশা কাটিয়ে উঠতে গভীর মনোযোগ দিবেন।’