Take a fresh look at your lifestyle.

গোলটেবিল আলোচনা : রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ঢেলে সাজানো সময়ের দাবি: ডা. সায়েদুর রহমান

৮৭

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের উপযোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি হয় এবং প্রোগ্রামটি দেশজুড়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে।’

আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিএমইউতে পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতে হবে। সেভাবেই এর চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। রোগীদের জন্য নিরাপদ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গড়ে তোলা যেমন প্রয়োজন নিরাপদ বিশেষজ্ঞ তৈরি করা আরো বেশি প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএমইউতে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশের উপযোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি হয় এবং দেশজুড়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনের কথা চিন্তা করে রেসিডেন্সি প্রোগ্রামকে ঢেলে সাজানো এখন সময়েরই দাবি। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রজ্ঞা, মেধা ও শ্রমসহ তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যার একটাই লক্ষ্য—বাংলাদেশের উপযোগী এবং বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও গুণী শিক্ষক তৈরি করা। একই সঙ্গে দেশেই সর্বোচ্চমানের উচ্চতর মেডিকেল শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, ‘আজকের একাডেমিক লিডাররাই রেসিডেন্সি প্রোগ্রামকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে নেবেন। বিএমইউর বর্তমান প্রশাসন চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সব ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফ্যাকাল্টি সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং আরও চালিয়ে যাচ্ছে। রোগীদের স্বার্থে এভিডেন্স-বেইজড মেডিসিন প্র্যাকটিস উৎসাহিত করা হচ্ছে। অনলাইন সেবা ও ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিএমইউকে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘ম্যানেজমেন্ট অব রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম’ বিষয়ে খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ইভালুয়েশন বাই রেসিডেন্টস অ্যান্ড টিচার্স’ বিষয়ে বিএমইউর পরিচালক (আইটি) অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, ‘এন্ট্রি এক্সাম ফর পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন’ বিষয়ে ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. মো. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, ‘ট্রেনিং মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন’ বিষয়ে সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, ‘কারিকুলাম অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন’ বিষয়ে কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, ‘এ্যাসেসমেন্ট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট এডুকেশন’ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ‘ক্রিটিক্যাল এ্যাপরাইজাল অব পোস্ট গ্রাজুয়েট থিসিস’ বিষয়ে বিএমইউর জার্নালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অধ্যাপক ডা. এম মোস্তফা জামান এবং ‘চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড শ্যাপিং দ্য ফিউচার অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জ্ঞানলব্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।

আলোচনায় প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, বিএমইউর প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বিএমইউর অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. খন্দকার মানজারে শামীম এবং শিশু কিডনি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোলাম মাঈনুদ্দিন।

এ ছাড়াও অনেক বিজ্ঞ আলোচকরা তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পর্যালোচনা করা, বিশেষ করে স্পেশালিস্ট প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম, মনিটরিং, মূল্যায়ন পদ্ধতির মূল বিষয়সমূহ নিয়ে বিশদ আলোচনা, পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়ন, এর ভবিষ্যৎ গঠনে চ্যালেঞ্জগুলো শনাক্ত করা এবং কার্যকর কৌশল প্রস্তাব করার লক্ষ্যেই এই গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.