Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সাররোগীদের আলোর দিশা দেখাচ্ছে ‘ব্যানক্যাট’

২৪০

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ক্যান্সারে একে একে ছয়জন আপনজনকে হারানোর বেদনা থেকেই জন্ম নেয় মানবিক উদ্যোগ— বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট (BANCAT)। কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং, কমিউনিকেশন ও পিআর জগতে পরিচিত মুখ মাহজাবিন ফেরদৌস ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং আজ তিনি হয়ে উঠেছেন ক্যান্সাররোগীদের জন্য আশার প্রতীক।

শৈশবে যৌথ পরিবারের স্নেহে বড় হলেও সময়ের সঙ্গে ক্যান্সার তার পরিবারে একের পর এক শূন্যতা তৈরি করে। চোখের সামনে মায়ের অসুস্থতা এবং আপনজনদের হারানোর যন্ত্রণা মাহজাবিনকে নাড়া দেয় গভীরভাবে। ক্যারিয়ারের শুরুতে মার্কেটিং ও পিআর খাতে কাজ করলেও ক্যান্সার নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন তখন থেকেই তার মনে দানা বাঁধে। Samsung ও IPDC-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার পর উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বর্তমানে মাহজাবিন ফেরদৌস CThreeSixty ও The Marvel Be You-এর কো-ফাউন্ডার এবং BANCAT-এর সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। “Care is Cure”—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে BANCAT দেশের নিম্ন আয়ের ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি সমন্বিত সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে।

প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ক্যান্সার রোগী বা ‘ওয়ারিয়র’-কে আবাসন, আর্থিক সহায়তা ও মানসিক সাপোর্ট প্রদান করেছে। BANCAT-এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আলোক নিবাস (বাংলাদেশের প্রথম ক্যান্সার কেয়ার হোম),
আলোক কথা (রোগীদের পরিবারের তৈরি হাতে সেলাই করা কাঁথা) এবং
আলোকন (রোগী ও পরিবারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং প্ল্যাটফর্ম)।

এখানেই থেমে থাকতে চায় না BANCAT। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে, এমনকি বিশ্বে প্রথম হতে পারে— এমন একটি ‘ক্যান্সার কেয়ার ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। যেখানে চিকিৎসা সেবা, আবাসন, বিনোদন ও মানসিক সুস্থতার সব সুবিধা এক জায়গায় থাকবে। বর্তমানে আলোক নিবাসে প্রায় ৯০ জন রোগী থাকলেও ভবিষ্যৎ কেয়ার ভিলেজে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ জন রোগীর থাকার ব্যবস্থা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে থানা ও উপজেলা পর্যায়ে ছোট ছোট কেয়ার হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার শুরুতেই রোগী ও পরিবার দিশেহারা না হয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও যত্ন পেতে পারে।

ব্যক্তিগত বেদনা থেকে মানবিক দায়বদ্ধতায় রূপ নেওয়া এই উদ্যোগ আজ ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা জাগাচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.