হেলথ ইনফো ডেস্ক :
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে তেহরান। ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার (২ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কয়েকটি সরাসরি আঘাতে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রোববার জেরুজালেমের পশ্চিমে অবস্থিত বেইত শেমেশ শহরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয়। একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় সরাসরি আঘাত হানলে আশপাশের একাধিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বোমা আশ্রয়কেন্দ্রসহ কয়েকটি স্থাপনার ছাদ ধসে পড়ে।
ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানায়, প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ছয় থেকে বেড়ে আটে দাঁড়ায়। পরে তা নয়জনে উন্নীত হয়। এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বেইত শেমেশে মৃতের সংখ্যা নয়জনে পৌঁছেছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। অন্যদিকে দ্য জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও হতাহত ও নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ১ মার্চ শনিবার রাতে তেল আবিব এলাকায় পৃথক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই নারী নিহত হন—একজনের বয়স ৩২ এবং অন্যজনের ৬৮ বছর। আশ্রয় নিতে যাওয়ার সময় আহত হয়ে তাঁরা মারা যান বলে জানিয়েছে এমডিএ। ওই হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।
এ ছাড়া হারেটজ ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, জেরুজালেম ও আশপাশের এলাকায় আরও হামলার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে বারবার সাইরেন বাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।