Take a fresh look at your lifestyle.

আপনার শিশুকে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে

৫৭

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
শিশুদের খাওয়ার প্রতি এমনিতেই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তার ওপর যদি হয় ফল তাহলে আর কোনো কথা নেই। তবে বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ফল।

শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফলমূল থেকে সে পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকেই অল্প পরিমাণে সম্পূরক খাবার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সব খাবার শিশুর জন্য সমান নিরাপদ নয়।

বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব ফল যে শিশুর জন্য নয় তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল দেওয়ার আগে মানতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

চলুন কেন সতর্কতা প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক—

বীজযুক্ত ফল শিশুকে খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? সঠিক পদ্ধতি জানুন
ফলের বীজ ছোট হলেও ঝুঁকি বড় হতে পারে—বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে। বরই, লিচু বা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো আছেই, আপেল, আঙুর, কমলা কিংবা ডালিমের মতো তুলনামূলক ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ার সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতায় বীজ শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও সূক্ষ্ম বীজ থাকে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

সতর্ক না থাকলে কী ঘটতে পারে—

খাবার গিলতে মুখ ও গলার একাধিক পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে। তখনই আমরা বুঝে খেতে পারি— কোন অংশটি মুখে যাবে, আর কোনটি ফেলে দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না।

ফলে শক্ত বা ছোট কোনো বস্তু তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে বীজের মতো শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ফল খাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। কারণ ফল সাধারণত পিচ্ছিল ধরনের। তাই অসাবধানতায় বীজ সহজেই গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরোও শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন

শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলে সম্পূরক খাবারের অংশ হিসেবে ফল দেওয়া শুরু করা যায়। তবে শুরুতে শুধু ফলের নরম অংশ দিতে হবে। বীজ ও খোসা সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে নরম অংশ ভালোভাবে কচলে বা মিহি করে খাওয়াতে হবে। আপেলের মতো শক্ত ফল আগে সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দেওয়া উচিত।

শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শিখবে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা এড়িয়ে চলতে হবে। দুই বছর বয়স পূর্ণ হলে টুকরো না করেও ফল হাতে দেওয়া যায়, তবে তখনও অবশ্যই সব ধরনের বীজ ফেলে দিতে হবে।

সাধারণত পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হলে সুস্থ শিশুকে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবু লিচু, জাম বা বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একসঙ্গে মুখে দিতে না দেওয়াই ভালো। বরং বীজ বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ।

এখন জেনে নেই জীবন বাঁচানোর কৌশল

শিশু যখন খাবার খায়, তখন তার পাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি থাকা জরুরি। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেই মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়— এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.