স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে তিন দিনে ৫ অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক সিলগালা

 

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
মানহীন ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে পরিচালিত তিন দিনের অভিযানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন টিম। গত ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ রাজধানীতে মোট ১৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ পরিদর্শনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত পরিদর্শন টিম গত ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ঢাকা শহরের মোট ১৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন করে এবং পরিদর্শনকালে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব অনিয়ম দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে। অভিযানের অংশ হিসেবে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেন। এ সময় বেশ কয়েকজনকে পাওয়া যায়, যারা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। কিছু হাসপাতালে কোনো অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। কিছু হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ছিল, যা রোগীদের মধ্যে নতুন করে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছিল।
অনিয়মগুলো হাতেনাতে ধরা পড়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বেশ কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—
১. ডক্টরস কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২৩/৬, রূপায়ন শেলফোর্ড টাওয়ার (৪র্থ তলা), মিরপুর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। ২. আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ৬৩, মাজেদ সরদার রোড, নিমতলী, ঢাকা-১০০০। ৩. অ্যাক্টিভ ব্লাড ব্যাংক, ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৮৫/এ-বি, হোসনী দালান রোড, চাঁনখারপুল, চকবাজার, ঢাকা। ৪. প্রাইম টিজি ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, ৮৩/৮৪/১, হোসনী দালান রোড, চকবাজার, ঢাকা-১২১১ এবং৫. টিজি মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার, গাবতলী রোড, কলোনি গেট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
অভিযান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিদর্শন জোরদার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে সিভিল সার্জনদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, অবস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিয়ম মানা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এই নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই দেশব্যাপী এই অভিযান আরও কঠোরভাবে শুরু হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আস্থা ফিরে পাবে।
সূত্র : মেডিভয়েস

Comments (০)
Add Comment