হেলথ ইনফো ডেস্ক :
চার বছর বয়স থেকেই দুরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ বায়জিদ মোল্লা। চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলায় অপারেশন, কেমোথেরাপি ও একের পর এক পরীক্ষা করিয়েও আজ অর্থাভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা। পরবর্তী ধাপ রেডিওথেরাপি- যার জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই লাখ টাকা। কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করতে না পেরে হতাশায় দিন কাটছে বাবা মো. নাসির মোল্লার।
ঢাকার মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল (জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল) সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ধরে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বায়জিদ। তাকে এ পর্যন্ত ৫২টি কেমোথেরাপি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এবার ৫৩টি রেডিওথেরাপি দিতে হবে।
কিন্তু ক্যানসার হাসপাতালে এই মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল। তাই বাইরে থেকে রেডিওথেরাপি দিতে হচ্ছে। ঋণের অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে বায়েজিদকে ১২টি রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়েছে। আরও প্রয়োজন দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
বায়জিদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন তার দরিদ্র বাবা নাসির মোল্লা। এখন আরও ৪১টি রেডিওথেরাপির জন্য টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। অর্থাভাবে দুদিন আগেই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন নাসির মোল্লা।
চিকিৎসকদের মতে, এখন রেডিওথেরাপি দেওয়া না গেলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বায়জিদের বাবা নাসির মোল্লা বাংলানিউজকে জানান, সাড়ে চার বছর আগে প্রথমে ছেলের গলায় ফোলা দেখা যায়।
শুরুতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। পরে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা করানো হয়। একপর্যায়ে অপারেশন করে টিউমার ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তখন নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়নি।
পরবর্তী সময়ে শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হয়। গলা ফুলে যায়, ঘোরাতে পারে না। একের পর এক টিউমার দেখা দেয় বুক, পেট ও গলায়। তেজগাঁওয়ের নাক-কান-গলা হাসপাতালে টানা ২৬ দিন ভর্তি রেখে শুধু পরীক্ষার পেছনেই ব্যয় হয় ৬২ হাজার টাকা, কিন্তু ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাসির। পরিস্থিতির অবনতি হলে আবার অপারেশন করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকার স্কয়ার রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে রেফার করা হয়। দেড় বছর ধরে সেখানে চিকিৎসা চলছে।
নাসির মোল্লা বলেন, আমার ছেলের এখন রেডিওথেরাপি দরকার। শুধু একটা পরীক্ষার খরচই ৪৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা বাবদ লাগবে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। কিন্তু এখন হাতে কোনো টাকা নাই।
নাসির মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি এক সময় চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করতেন। ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ার পর তার চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ছুটি নিতে হতো। এ কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন রোজগার বন্ধ। তিন সন্তান নিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
‘একবেলা খাই, দুইবেলা খাই না। কোনোদিন কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাত খাই। কোনোদিন কয়েক মুঠো মুড়ি খেয়েও দিন চালাই। আল্লাহই চালাচ্ছেন আমাদের’, কাঁপা গলায় বলেন তিনি।
জ্বর, টিউমার আর অসহ্য যন্ত্রণা
বায়জিদের অসুখের লক্ষণ হিসেবে দীর্ঘদিন টানা ২০ থেকে ২৫ দিন জ্বর থাকত। ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিক- কিছুতেই কাজ করত না। ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টিউমার দেখা দেয়। কেমোথেরাপিতে কিছু টিউমার ছোট হলেও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কেমোথেরাপিতে আর কাজ হচ্ছে না। এখন একমাত্র ভরসা রেডিওথেরাপি।
সাহায্যের আশায় আবারও দ্বারে দ্বারে
নাসির জানান, এর আগেও একটি পত্রিকায় বাইজিদের চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র চার হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু তা চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়।
বর্তমানে তিনি আবারও মানবিক সহায়তার আশায় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। রিপোর্ট প্রকাশ হলে কেউ এগিয়ে আসবেন- এই আশাতেই বাঁচতে চাইছেন তিনি।
বায়জিদের জন্য সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা-হিসাবধারীর নাম তাহমিনা (বায়জিদের মা), হিসাব নম্বর ২০০১৬০১০৩০৫৬১, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, আলফাডাঙ্গা শাখা, ফরিদপুর। মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ০১৩৩৫-৮২৩৮৯৯ (বিকাশ, ব্যক্তিগত)।