মানিকগঞ্জে বিপদে পড়ে রাতযাপনে হাসপাতালে দম্পতি, নারীকে ‘ধর্ষণ’ দুই আনসার সদস্যের

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
গভীর রাতে বিপদে পড়ে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন এক দম্পতি। সেখানে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আনসার-ভিডিপির দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

আটক দুই আনসার সদস্য হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়া পাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৬) এবং টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (৩২)।
জানা যায়, গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানা বাড়ি যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী ও তার স্বামী। তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছিলেন। এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসামাত্র ভ্যানগাড়ির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য সদর হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন ওই দম্পতি।

হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন এবং আবু সাঈদ তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ভেতরে নিয়ে যান। এরপর তারা হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে রেখে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান গৃহবধূকে। অভিযুক্ত দুজন নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন তাকে। পরে তিনি নিচতলায় নেমে তার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা থানায় গিয়ে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে আনলে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সদর উপজেলার অফিসার (আনসার) শামীমাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে এটি খুবই ন্যক্কারজনক ও অমানবিক।
এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে কমান্ড্যান্ট বলেন, আমরা চাই অভিযুক্তদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পরই হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারওয়ার বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিক্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ওই নারী যেন সঠিক চিকিৎসা পান, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত।

Comments (০)
Add Comment