বিএমইউতে রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়া বিষয়ক ক্যাডাভার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

হেলথ ইনফো ডেস্ক :

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়া বিষয়ক ক্যাডাভার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের অষ্টম তলায় পেইন স্কিল অ্যান্ড সিমুলেশন ল্যাবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বিএমইউর অ্যানেসথেশিয়া, অ্যানালজেশিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পেইন মেডিসিন ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিদেশি ফ্যাকাল্টি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার ক্যাডেভার ওয়ার্কশপের প্রধান অধ্যাপক প্রফেসর পল কেসলার।

কর্মশালায় চিকিৎসকদের রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড পদ্ধতি ও নিডলিং কৌশলে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে মানব মৃতদেহ (ক্যাডাভার) ব্যবহার করে স্নায়ু ও পেশির গঠন, শারীরবৃত্তীয় অবস্থান এবং এর ক্লিনিক্যাল প্রয়োগ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন করানো হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়া পদ্ধতিতে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। ফলে এটি রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আধুনিক শল্যচিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অস্ত্রোপচারের সময় ও পরবর্তী পর্যায়েও এই পদ্ধতি কার্যকর ও নিরাপদ বলে উল্লেখ করা হয়।

দেশের প্রথম এই ক্যাডাভারভিত্তিক রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়া কর্মশালায় ২০ জন চিকিৎসক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মৃতদেহের ওপর সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে বিএমইউতে এ ধরনের কর্মশালা বছরে অন্তত দুইবার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে এই আয়োজন বিএমইউর পেইন স্কিল অ্যান্ড সিমুলেশন ল্যাবকে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেস্থেসিয়ার অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বিএমইউর আইসিটি পরিচালক ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এ ছাড়া এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. লুৎফুল আজিজসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, এ ধরনের কর্মশালা চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তিনি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং হাসপাতালে সংক্রমণজনিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

Comments (০)
Add Comment