প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার ঘুম চাই-ই চাই

হেলথ ইনফো স্বাস্থ্য ডেস্ক
সুস্থ দেহ ও সতেজ মন পেতে প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই বাড়ে না, বরং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত পূর্ণ ঘুমের বিকল্প নেই।

ঘুমের মান উন্নত করে

মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করলে ঘুমও হয় গভীর ও প্রশান্তিময়।

নিয়মিত ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও জাগ্রত হওয়া ঘুমের আরইএম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়কে সঠিক রাখে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মরণশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে।
বাড়ায় এনার্জি লেভেল

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন ক্লান্তি ভর করে থাকে। চোখ ঢুলতে থাকে, কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।

কিন্তু ৭–৮ ঘণ্টার ঘুম দেহের কোষ পুনরুজ্জীবিত করে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীর সতেজ অনুভূত হয়। ফলে সারাদিন থাকে কাজের শক্তি ও উদ্যম।
নিয়ন্ত্রণে থাকে হরমোন

রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে দেহে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা মানসিক চাপ ও অবসাদের ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম দেহের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে ডায়াবেটিস, ডিপ্রেশনসহ বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উন্নত করে মেটাবলিজম

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ডায়েট বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিয়মিত ভালো ঘুমও। পর্যাপ্ত ঘুম বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে হজম ভালো থাকে, অ্যাসিডিটি, ব্লোটিং ও রিফ্লাক্সের সমস্যাও কমে।

যেভাবে হবে গাঢ় ও আরামদায়ক ঘুম

ঘুমোতে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন নিয়ে বিছানায় যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে দেহের জৈবিক ঘড়ি ঠিক থাকে।
বিকালের পর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা–কফি পরিহার করুন। খুব ভারী খাবার খাবেন না এবং ভারী শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন। তার বদলে বই পড়া, গান শোনা বা মেডিটেশন ঘুমের আগে মন ও শরীরকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুম শুধু আরামই নয়, বরং সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে ঘুমকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

Comments (০)
Add Comment