নতুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

ডা. এম এ মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডা. এম এ মুহিত ছিলেন কে-৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ডা. এম এ মুহিত লন্ডনের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে এমএসসি এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিখ্যাত বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ১৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতের স্বাস্থ্য ও জনসেবা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিস্তৃত। তিনি সিএসএফ গ্লোবালের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নেপালে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ছাড়াও জিএলএম-সিপিআর নেটওয়ার্কের অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে বিশ্বের ২৮টি দেশের ৮০টিরও বেশি সংস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. মুহিতে।

তার বাবা ডা. এম এ মতিন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসা সমিতির সভাপতি, বিএনএস চক্ষু হাসপাতাল ও নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য ছিলেন। মা তাশমিনা মাহমুদ একজন চিকিৎসক এবং পাকিস্তানের সাবেক শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের মেয়ে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তাঁর মামা। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বড় ভাই অধ্যাপক ডা. এম এ মুকিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠী সুবিধা নিশ্চিতে আগে দীর্ঘ দিন ধরে স্বাস্থ্যসহ সামাজিক নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অধ্যাপক ডা. মুহিত ‘প্রফেসর মতিন আই কেয়ার সিস্টেম’র মাধ্যমে ১১টি আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল এবং শাহজাদপুরে একটি মা ও শিশু হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রগুলো হাজার হাজার মানুষের অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং মা ও শিশুর চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান সিএসএফ। প্রতিবন্ধী শিশুদের উপযুক্ত যত্ন ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাঁদের সুষ্ঠু বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিএসএফ।

এ ছাড়া তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গুণী এই চিকিৎসক ও গবেষকের হাত ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

Comments (০)
Add Comment