ড. মজিবউদ্দিন মৃত্যুর পরও আলো ছড়াচ্ছেন, কর্নিয়া পেলেন দুই দৃষ্টিহীন

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
অধ্যাপক ড. মজিবউদ্দিন আহমেদ (৭৫) মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে ৪.৫২ মিনিটে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুম মজিবউদ্দিন জীবদ্দশায় তাঁর পরিবারের নিকট চক্ষুদানের ইচ্ছা পোষণ করে গিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পর ড. মজিবউদ্দিনের কন্যা নামিরা পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণে সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংকে যোগাযোগ করেন। এরপর সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংকের একটি টিম অধ্যাপক ড. মজিবউদ্দিন আহমেদের দুটি কর্ণিয়া সংগ্রহ করে।

১৯৬০ সালে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই গুণী শিক্ষাবিদ দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে তিনি শুধু নিজেকে সমৃদ্ধ করেননি, বরং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে।
মরহুম মজিবউদ্দিন ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মরহুম অধ্যাপক মজিবউদ্দিন আহমেদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক এলিজাবেথ সিটি স্টেট ইউনিভার্সিটি, লেবাননের বালামান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফিজির ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ প্যাসিফিক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে বিশিষ্ট কর্ণিয়াল সার্জন ডা. সৈয়দ এ হাসান সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংকের ৪১৯৭ ও ৪১৯৮নং সংগৃহীত কর্ণিয়া দ্বয়কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মাঈনু (৩৫) এবং কুষ্টিয়া জেলার মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৮) দু’জনের চোখে সফল অস্ত্রোপচার করেন। মাঈনু ও জাহিদুল ইসলাম দৃষ্টি ফিরে পেয়ে আবার দেখতে পাবে পৃথিবীর রং, রূপ ও সৌন্দর্য্য।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪১৯৮ টি কর্ণিয়া সংগ্রহের মাধ্যমে তিন হাজার ৫৩৫ জন অন্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।

 

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক কাশেম এবং মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন দেশে অসংখ্য কর্ণিয়া অস্বচ্ছতাজনিত দৃষ্টিশক্তি হতে বঞ্চিত হতভাগ্যদের চোখে কর্ণিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে মরহুমের পরিবারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে আসার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

Comments (০)
Add Comment