হেলথ ইনফো ডেস্ক :
ইরানের রাজধানী তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রোববার (১ মার্চ) স্থানীয় সময় অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা ইসনা।
বার্তাসংস্থাটির বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদীরা।
দেশটির বার্তাসংস্থা ফার্স ও মিজান হাসপাতালের ভেতরের ছবি প্রকাশ করেছে।
ছবিতে দেখা গেছে, হাসপাতালের ছাদ খসে পড়েছে এবং কিছু খালি হুইলচেয়ার পড়ে আছে সেখানে। হাসপাতালের মেঝে রক্তে ভেসে গেছে, মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নার্সরা নবজাতকদের নিরাপদ স্থানে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে হাসপাতালের উপর মিসাইল আছড়ে পড়া প্রবল বিস্ফোরণে কালো ধোঁয়া গোটা এলাকা ঢেকে দেয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে বহু রোগী।
হামলায় হাসপাতালের একাংশ সম্পূর্ণ ধসে গেছে। ফলে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটি দ্রুত খালি করার তৎপরতা শুরু হয়। তবে রোগীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তেহরানে থাকা ভারতীয়দের জন্য ১৯৬০ সালে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধীর নামে নির্মিত এ হাসপাতালে পরবর্তীতে ইরানি নাগরিকদের জন্যও চিকিৎসা সেবা খুলে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে খামেনিসহ ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর প্রাণ হারান।
হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
যৌথ হামলার জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনার হামলা চালাচ্ছে ইরান।