হেলথ ইনফো ডেস্ক :
বিশ্ব কিডনি দিবস–২০২৬ উপলক্ষে কিডনি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বি ব্লকের সামনে বটতলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ শুরুতেই শনাক্ত না হলে রোগীর জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সদস্যসচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে অগ্রসর হয়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। কিডনি রোগের চিকিৎসা বিশেষ করে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে তা নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হয়। তিনি কিডনি সুস্থ রাখতে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।
সদস্যসচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, গত এক দশকে দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক সময় রোগী যখন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন কিডনির বড় একটি অংশ অকার্যকর হয়ে যায়। তাই বছরে অন্তত একবার কিডনি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, ইউরিন আরই ও ক্রিয়েটিনিনের মতো সাধারণ পরীক্ষা করলেই কিডনির সমস্যার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি (আইএসএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাউন্ডেশনের (আইএফকেএফ) যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে।’
বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২২ শতাংশ। সে হিসাবে দেশে কয়েক কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন এবং প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।