নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালে এক বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পচনধরা মাথার খুলি অপসারণ করে নতুন করে রোগীর মাথা আবরণ দেওয়ার সফল চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন ডা. শাওন বিন রহমান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা সংকট ও আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে থাকা ওই রোগী বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
বার্ন, প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানায়, কয়েক বছর আগে ইলেকট্রিক বার্নের ঘটনায় রোগীর মাথার চামড়া সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। মাথার খুলি ঢাকতে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি হাসপাতালে পরপর দুইবার অস্ত্রোপচার করান। মাথার মাংস স্থানান্তর ও চামড়া বসানো হলেও বাড়ি ফেরার পর আবারও খুলির অংশ বের হয়ে আসে। পুনরায় অপারেশনের আশায় চিকিৎসকদের কাছে ঘুরতে থাকলেও আর্থিক দুরবস্থার কারণে এক পর্যায়ে ঢাকা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
চিকিৎসা না হওয়ায় দীর্ঘদিন আবরণবিহীন অবস্থায় থাকা মাথার খুলি ধীরে ধীরে পচে যায়। অবশেষে তিনি বরিশালে এসে স্থানীয় এক প্লাস্টিক সার্জনের শরণাপন্ন হন। প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষার পর নামমাত্র খরচে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারের সময় পচে যাওয়া খুলি ও আশপাশের টিস্যু থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, খুলির নিচেই ছিল সরাসরি মস্তিষ্ক, ফলে সামান্য অসতর্কতায় প্রাণঘাতী ঝুঁকি ছিল। অত্যন্ত সতর্কতা, ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে পচনধরা খুলি, চামড়া ও মাংস সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
এরপর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সীমিত চামড়া ও মাংস ব্যবহার করে মাথা ঢেকে দেওয়া। প্লাস্টিক সার্জারির জ্যামিতিক কৌশল প্রয়োগ করে সফলভাবে মাথা আবৃত করা সম্ভব হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর জ্ঞান ফেরে, সেলাই কাটা হয় এবং তাকে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়—খুলিবিহীন অংশ রক্ষায় নিয়মিত হেলমেট ব্যবহার করতে হবে, কারণ সামান্য আঘাতেও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুঝুঁকি থাকতে পারে।
চিকিৎসকরা ভবিষ্যতে খুলি পুনঃস্থাপনের জন্য নিউরোসার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। সাম্প্রতিক ফলোআপে তিনি তার তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে চেম্বারে আসেন। শিশুটির হাসি ও কথাবার্তায় সেখানে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রোগী জানান, চিকিৎসার পর থেকে আর কোনো সংক্রমণ হয়নি, এমনকি একবার পানিতে পড়লেও কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি।
জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এর চিকিৎসকজাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসা পেলে এমন জটিল অবস্থার রোগীকেও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব—এই ঘটনাই তার প্রমাণ।