‘করোনায় আপনজনের কাছে যেতেন না কিন্তু চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন : স্বাস্থ্য মন্ত্রী

হেলথ ইনফো ডেস্ক :
দেশে করোনাকালীন সময়ে মৃত্যু ভয়ে যখন স্বজনরা তাদের একান্ত আপনজনের কাছে যেতেন না, তখন চিকিৎসকেরা করোনার রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সকাল ছয়টায় রওনা দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি, পোনে নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও), আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নেই, পাঁচজন চিকিৎসকও অনুপস্থিত। রোগীরা বসে আছেন, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে। স্টোর রুমে গিয়ে দেখি, প্যারাসিটামল আর ওমিপ্রাজল ব্যতীত কোনো ওষুধ নেই। হাসপাতালে দালালদের আগমন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানে একটি স্লাইডে চিকিৎসকদের সমস্যা বা জাতির সমস্যা দেখাতে গিয়ে প্রথম দেখালেন চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি। সমস্যা আপনারাই তুলে ধরেছেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনাকালীন সময়ে যখন মৃত্যু ভয়ে পিতা-মাতা সন্তানের কাছে যেতে পারতেন না, সন্তান পিতা-মাতার কাছে আসতো না, স্বামী স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতো না, স্ত্রী তার স্বামীর পাশে না দাঁড়ালেও চিকিৎসকেরা করোনার রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। সেই সময়ে একমাত্র আমাদের গর্বিত চিকিৎসকেরা করোনার রোগীদের সেবা করে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।’

প্রধান অতিথি ডা. জোবাইদা রহমানের সামনে চিকিৎসকদের অনুরোধ জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত বলেন, ‘আপনারা একটা টিম করে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের বলুন ঠিক সময়মতো রোগীদের পাশে দাঁড়াতে, ঠিকমতো অফিসটায় আসতে, দালালদের দৌড়াত্ম বন্ধ করতে। আমরা অ্যাপ দিয়েছি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স (এনএসআইকে) বলেছি, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কাজ করতেছে, কিন্তু আপনারা যতক্ষণ না পর্যন্ত সামনের দিকে এগিয়ে আসবেন, দালালদের দৌড়াত্মের কারণে সেই সেবা প্রদান সহজলভ্য হবে না। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে আপনাদের দায়িত্বটুকু সুন্দরভাবে পালন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে জনগণের সাথে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, চিকিৎসা সেবাকে সহজলভ্য করবেন, সেটাকে সার্থক করার লক্ষ্যে আপনাদের চেষ্টা কামনা করে আপনারা এগিয়ে আসবেন আশা করি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরদার সাখাওয়াত বলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সকলকেই যথাসময়ে অফিসে আসতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো দালালমুক্ত করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো চিকিৎসকসহ কর্মরত অনেকেই যথাসময়ে আসেন না বা অনুপস্থিত থাকেন—এই অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

অনুষ্ঠানে ইফতার মাহফিল উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, সদস্য সচিব ডা. রেজা মো. সামিউল হাসান (বাবু) উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ ড্যাবের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মো. শাহিদুল হাসান বাবুল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার-১ ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো প্রমুখসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকসহ ড্যাবের সকল পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments (০)
Add Comment