ঈদে সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে অ্যাম্বুলেন্স ও ল্যাব সেবা

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা

হেলথ ইনফো ডেস্ক :

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১২ মার্চ জারি করা এসব নির্দেশনায় জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং লেবার রুম, জরুরি অপারেশন থিয়েটার, ল্যাব ও ব্লাড ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছুটি শুরুর আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ রাখার ওপরও দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। এ ছাড়া ছুটির সময় হাসপাতালের সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করার নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ এর ছুটির সময়ে হাসপাতালসমূহে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য নিম্নলিখিত নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নপূর্বক সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান, এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, অধিদপ্তর কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে। এ সময় প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন। এ ছাড়া সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধুমাত্র ঈদের ছুটিকালীন নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন।

ছুটিতে হাসপাতালের অন্তঃর্বিভাগ ইউনিট প্রধানগণ প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন উল্লেখ করে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা চালু রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ছুটি শুরু হবার পূর্বেই ছুটিকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্টোর কিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন।

ঈদে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখার আদেশ জারি করে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটিকালীন সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম পত্র দিতে হবে।

এ ছাড়া ছুটিকালীন সময়ে সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা সকল দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার অধিক বন্ধ রাখা যাবে না জানিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা

একই সঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, সকল বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখবে, কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেফার্ড রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সপ্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

এ ছাড়া যেকোনো দুর্যোগ, অনাকাঙিক্ষত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Comments (০)
Add Comment